বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

বিশ্বজাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে নদী পথে বাঁশের ভেলার যাত্রা 


প্রকাশ : (৭ ঘন্টা আগে)
বিশ্বজাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে নদী পথে বাঁশের ভেলার যাত্রা 

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশে যাত্রা করেছে ‘একক নজরানা’ বাঁশের (ভুঁড়)ভেলা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উষালগ্নে তিস্তা নদী পথে বাঁশের ভুঁড় যাত্রা করেছে। বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন ও পবিত্র ওরশ উপলক্ষে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নস্থ তিস্তা নদীর উত্তর তীর হতে রঙিন কাগজ,পতাকা ও নানা সাজসজ্জায় সজ্জিত বাঁশের (ভুঁড়) ভেলা তিস্তার স্রোত পেরিয়ে ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশে এগিয়ে যায়।
স্থানীয় জাকের পার্টি সুত্রে জানা গেছে, ৮ জুলাই বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাঁশের ভুঁড়া তৈরির কাজের উদ্বোধন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে রাজারহাট উপজেলার কর্মী গ্রুপ, জাকের ও ভক্তবৃন্দের উদ্যোগে তিস্তার পাড়ে চলে ভুঁড়া তৈরির কাজ। প্রায় দুই মাসের শ্রম ও প্রস্তুতি শেষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
ভেলা নির্মাণকাজ শেষে সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ভুঁড়ার বিদায়ী মাহফিলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভক্ত-আশেকানরা অংশ নেন। মাহফিলে জিকির, ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভুঁড়াটির যাত্রাকে ঘিরে সকাল থেকেই বুড়িরহাট তিস্তা নদীর পাড়ে মানুষের সমাগম ঘটে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর তীরে ভিড় করেন। কেউ ভুঁড়াটি দেখতে, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে ব্যস্ত ছিলেন। ভক্ত-আশেকানদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয় আশেকানরা জানান, বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন ও পবিত্র ওরশ উপলক্ষে প্রতিবছরই তিস্তার এ এলাকা থেকে ‘একক নজরানা’ হিসেবে বাঁশের ভুঁড়া পাঠানো হয়। নদীপথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এ নজরানা ফরিদপুরের দরবার শরীফে পৌঁছে দেওয়া হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির প্রত্যাশায় তাঁরা এ আয়োজনে অংশ নেন।

তাঁরা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভুঁড়া তৈরির কাজ করতে হয়। এরপর নদীপথে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ। রোদ-বৃষ্টি, স্রোত ও নানা প্রতিকূলতা থাকলেও এ আয়োজনকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ভক্তদের কাছে এটি শুধু একটি নদীপথের যাত্রা নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি আয়োজন।

তিস্তা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, “আশেকানরা বিশ্বাস করেন, দরবারে গিয়ে তাঁদের আত্মার প্রশান্তি মেলে। এটি তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের অংশ।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন তিস্তার পাড়ে ভিন্ন এক আবহ তৈরি করে। ভুঁড়ার নির্মাণ থেকে শুরু করে বিদায়ী মাহফিল এবং শেষ পর্যন্ত নদীপথে যাত্রা-পুরো আয়োজন ঘিরেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকে।

বিজ্ঞাপন