একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কতটা অসহায়, কতটা ক্ষুব্ধ ও অপমানিত হলে মৃত্যুর আগেই বলে যেতে পারেন
“আমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করবেন না!”
এ শুধু একটি বাক্য নয়—এ যেন রাষ্ট্র ও সমাজের বিবেকের প্রতি এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কঠিনতম প্রশ্ন।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের ছোট পলাশবাড়ী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম লিখিতভাবে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কাছে জানিয়েছেন তাঁর ক্ষোভ ও বেদনার কথা। তাঁর অভিযোগ—যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি, তাদের কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর পর নিজেও একইভাবে সম্মানিত হওয়ার বিষয়টি তিনি প্রত্যাখ্যান করতে চান।
তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এই বহর দেখে প্রকৃত ও চেতনাসম্পন্ন মুক্তিযোদ্ধারা দুঃখিত, ব্যথিত, লজ্জিত ও অপমানিত। মৃত্যুর পর আর অপমানিত হতে চান না—এই কারণেই তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ভাবুন একবার—যে মানুষটি একদিন দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই মানুষটিই আজ মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী!
এ প্রশ্ন শুধু দবিরুল ইসলামের নয়।
এ প্রশ্ন মহান মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদার।
এ প্রশ্ন ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের।
এ প্রশ্ন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত ও ত্যাগের স্বীকৃতির।
মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সনদ নয়, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ঢাল নয়। এটি বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহাসিক সম্মান। তাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা রক্ষায় ভুয়া বা বিতর্কিত স্বীকৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যেন জীবিত অবস্থায় অপমানিত হয়ে বলতে না হয়—
“মৃত্যুর পরও আমাকে অপমান করবেন না।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে তরুণ প্রজন্ম সরকারকে লাল কার্ড দেখাতে দেরী করবে না - রংপুরে ছাত্রশিবির সভাপতি
৫ ঘন্টা আগে
রংপুরে ডেঙ্গু জ্বরে ২ জনের মৃত্যু
৫ ঘন্টা আগে