রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে দুই ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করছেন চিকিৎসক,নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত নতুন অধ্যক্ষ ডা. মাহফুজার রহমানের পদত্যাগের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। বহির্বিভাগসহ সব ওয়ার্ড থেকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়ায় নাকাল হয়ে পড়ে রোগীরা।এতে হাসপাতালে শত- শত রোগীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।ফ্যাসিবাদের দোসর ডাক্তার মাহফুজ কে অধ্যক্ষের পথ থেকে না সরানো হলে আগামীকাল (বুধবার)থেকে কমপ্লিট শাটডাউনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চিকিৎসক,নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।বেলা ১১ টার পরে মেডিকেল ক্যাস্পাসে চিকিৎসক,নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন চিকিৎসক ও সহযোগীরা।বেলা ১১ টার পর থেকে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসাসেবা দেয়ার কথা জানান আন্দোলন কারীরা।
মঙ্গলবার সকাল নয়টায় হাসপাতালের আউটডোরে গিয়ে দেখা যায়,টিকেট কাউন্টারের সামনে শত শত রোগীর ভিড়। চেম্বারে কোন চিকিৎসক না আসায় দীর্ঘক্ষণ থেকে অপেক্ষা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা এসময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ।
রংপুর নগরীর হাজীরহাট উত্তর পাড়া থেকে ১৪ দিন বয়সী শিশুকে নিয়ে আসেন তার মা সারমিন আক্তার(২৮)বহির্বিভাগে দীর্ঘক্ষণ দেখে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।তিনি বলেন, অসুস্থ থাকায় শিশুকে নিয়ে সকালে এসেছি কিন্ত এখনো চিকিৎসক দেখাতে পারিনি কখন দেখাতে পারবো তাও জানিনা। বেলা ১১টার পরে তাকে মেডিকেলে দেখা যায়নি।
জেলার মিঠাপুকুর থেকে আসা বুলবুলি বেগম বলেন,ডাক্তার দেখাতে সকালে এসেছি কিন্তু টিকিট কাউন্টারে এক ঘন্টা থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পাইনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারব জানিনা। চিকিৎসক না পেয়ে হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে চলে গেছে দেখা গেছে অনেকে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নীলফামারী থেকে আসা মনিরুজ্জামান মিঠুকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করেন তার স্বজনরা।এ সময় স্বজনরা বলেন, হাসপাতালে কোন ডাক্তার নেই।তারা কখন আসবে জানিনা।এজন্য রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।
মেডিকেলের আউটডোরে টিকিট কাউন্টারে কর্মরত ওয়ার্ডবয় রাসেল বলেন,প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত টিকিট দিতে নিষেধ করা হয়েছে। ডাক্তাররা এখনো আসেনি। দশটার পর আমরা টিকিট দেয়া শুরু করব।
আন্দোলন কারীদের সমন্বয়ক ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার শরিফুল ইসলাম মন্ডল বলেন, আজকে দুই ঘন্টার কর্মবিরতি চলছে। ফ্যাসিবাদের দোসর ডাক্তার মাহফুজ কে অধ্যক্ষের পথ থেকে না সরানো হলে আগামীকাল থেকে শাউটডাউনে যাব আমরা।
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের বিভাগীয় সভাপতি ডা. মোহাম্মদ হোসেন বলেন,ছাত্র জনতার রক্তের মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের পরও একজন ফ্যাসিবাদীকে এই হাসপাতালের অধ্যক্ষ করা হয়েছে।তাকে দ্রæত অপসারণ করা না হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমানকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পরদিন থেকে তার পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাস জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। আজকে দুই ঘন্টার কর্মবিরতি শেষে তাদের দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে কমপ্লিট শাটডাউনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চিকিৎসক,নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।