শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

ফারাক্কা লংমার্চের চেতনায় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান


প্রকাশ :

ফারাক্কা লংমার্চের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে “ফারাক্কা লংমার্চ-প্রাণ প্রকৃতি পালনবাদ” শীর্ষক এক ওয়েবিনারের আয়োজন করে ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) অনুষ্ঠিত এই অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ফারাক্কা লংমার্চের চেতনা আজও বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের পথপ্রদর্শক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাসানী পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা ও গেরিলা লিডার ড. শফিকুল ইসলাম কানু। কি-নোট উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. মো. শাহেদুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক কাজী ইফতিখার হোসেন, সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী, যুগ্ম সদস্য সচিব ইমরান হোসেন, মুখপাত্র আজম অলিউল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ভাসানী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক রাকিবুল হাসান রানা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

বক্তারা বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফারাক্কা লংমার্চের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন, ফারাক্কা লংমার্চের চেতনা ধারণ করেই বাংলাদেশ আগামী দিনে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে সক্ষম হবে।

কি-নোট উপস্থাপক ড. মোহাম্মদ আজাদ খান পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এই প্রকল্প মওলানা ভাসানীর প্রাণ-প্রকৃতি পালনবাদী দর্শনের পরিপন্থী। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের বিরোধিতা করা রুবুবিয়াতের বরখেলাপ এবং তা মওলানা ভাসানীর আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, ফারাক্কা লংমার্চের গুরুত্ব ৫০ বছর পরেও ম্লান হয়নি। বরং নতুনভাবে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। নদীরও যে প্রাণ আছে, আজ তা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হলেও মওলানা ভাসানী অনেক আগেই ফারাক্কা লংমার্চের মধ্য দিয়ে সেই সত্য উচ্চারণ করেছিলেন।

আহবায়ক ইফতেখার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গভীর সংকটে মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চের চেতনা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক।

সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকালে সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ভাষা এবং ফারাক্কা লংমার্চের প্রাণ-প্রকৃতি পালনবাদী রাজনীতিই আমাদের মুক্তির একমাত্র পথ।

সভাপতির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের নেতা মাওলানা ভাসানী ফারাক্কা লংমার্চের মধ্য দিয়ে যে পথ দেখিয়েছিলেন, সেটিই আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতির পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

ওয়েবিনারে বক্তারা ফারাক্কা লংমার্চের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, প্রকৃতিবান্ধব ও স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।