রংপুরে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টির ঝড়ে জিআই স্বীকৃত হাঁড়িভাঙ্গা আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ২০ শতাংশ ফলন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা। স্বাদ ও গন্ধে অনন্য এই হাঁড়িভাঙ্গা আম ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জিআই স্বীকৃতি পায়। সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এ আম বাজারে আসতে শুরু করে।
রংপুরের মিঠাপুকুর ও পদাগঞ্জ এলাকার আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ২৬ এপ্রিল থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে কয়েক টন আম গাছ থেকে ঝরে পড়েছে। বিশেষ করে আমের আঁটি শক্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে ঝরে পড়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে গাছে থাকা আমেও ফাটল, দাগ ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে আরও ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার আম চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, তার এক একর বাগানে প্রায় ২৫০টি হাঁড়িভাঙ্গা আম গাছ রয়েছে। যেখানে প্রায় ৪০০ মণ আম পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু ঝড়ে প্রায় ১০০ মণ আম নষ্ট হয়ে গেছে। আঁটি শক্ত হওয়ার আগে ঝরে পড়া আম বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। বাগানে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে এখন তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
রংপুর আঞ্চলিক খামারবাড়ির তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আম উৎপাদন থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আশা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই লক্ষ্যমাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক কারণে কিছু আম ঝরে পড়েছে। তবে গাছে থাকা বাকি আমগুলোর আকার বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব নাও পড়তে পারে।