মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রাজারহাটে রেল লাইনের উপরেই বসছে হাট, দেখার কেউ নেই


প্রকাশ :

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিমে প্রায় ৭ শত গজ এলাকা জুড়ে রেল লাইনের উপরেই বসছে হাটবাজার। প্রতিদিন সকাল-বিকাল কেনাবেচা হচ্ছে মরিচ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, আলু, পটল, করলা, ঝিঙা, লাউ, শসাসহ নানা রকম তরিতরকারি ও শাকসবজি। এছাড়াও এলাকার বিভিন্ন নার্সারি থেকে আসা নানা জাতের ফলজ ও বনজ গাছের চারা সারি সারি রেল লাইনের উপরেই সাজিয়ে রেখে হচ্ছে বেচাকেনা। এজন্য ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরকষাকষি, হাকডাক, আনাগোনায় গিজগিজ করা মানুষের ভিড়ে সরগরম থাকে পুরো এ এলাকাটি।

এসময় আকস্মিক ট্রেন এসে পড়লে শুরু হয় তাড়াহুড়ো, ছুটাছুটি। রেল লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় সকল মালামাল ও চটি দোকানগুলো। ট্রেন চলে যাওয়ার পর আবারও চট, বস্তা, মাদুর বিছিয়ে বসানো হয় চটি দোকানগুলো। আবার শুরু হয় বেচাকেনা। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। অথচ দেখার কেউ নেই, নেই কারও মাথাব্যথা। লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের ডিটিএস-এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, তিস্তা থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে থাকে। স্থানীয় জনগণ জানায়, যে কোনো দিক থেকে ট্রেন আসার সময় হলে স্টেশনের পশ্চিমের প্রথম রেল গেটটি গেটম্যান বন্ধ করে দেয়। তখন গেটের দুপাশে যানবাহন, পথচারী ও হাটুরেদের অস্বাভাবিক ভিড় জমে যায়। রেল লাইনের উপরের ছোট ছোট দোকানদারেরা তাদের দোকানপাট রেল লাইনের মাঝখান থেকে রেল লাইনের পাশে দ্রুত সরিয়ে নেয়। হাটুরেরাও রেল লাইন থেকে সরে গিয়ে ট্রেন চলে যাওয়া পর্যন্ত রেল লাইনের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে অপেক্ষমাণ। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে রেল লাইনের উপরে অবৈধ দোকান বসিয়ে হাটবাজার চললেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো মাথাব্যথা। ইতিপূর্বে উক্ত স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের প্রাণহানি ঘটলেও এ অবৈধ দোকানপাট বসানো বন্ধ করতে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

সিংগার ডাবড়ী হাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে কুড়িগ্রামের খলিলগঞ্জ স্টেশনের সন্নিকট পর্যন্ত রেল লাইনের পাশ ঘেঁষা পাকা সড়ক পথের মাঝামাঝি সড়ক বিভাগের লোহার সীমানা প্রাচীর থাকলেও রাজারহাট রেল স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। তাছাড়া স্টেশনের পশ্চিমে ২টি রেল গেটের প্রথম গেট পর্যন্ত রেল লাইন ঘেঁষে সড়ক পথ না থাকায় সড়ক বিভাগের কিছুই করার নেই বলে জানায় সড়ক বিভাগ। তাই রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে পশ্চিম দিকের রেল গেট পর্যন্ত জায়গাটি পুরোই রেলওয়ে বিভাগের। আর এই রেলপথের উপরেই সকাল-বিকাল চলে হাটবাজার। এ জায়গাটি নিরাপদ রেল চলাচলের জন্য অবশ্যই রেল লাইনের দু’পাশে লোহার সীমানা প্রাচীর বসানো একান্ত প্রয়োজন। তবেই বন্ধ করা যেতে পারে এ হাটবাজার। নিরাপদ করা যেতে পারে রেল চলাচল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন।

এ বিষয়টি লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় ম্যানেজারকে মুঠোফোনে অবগত করা হলে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে লালমনিরহাট বার্তাকে আশ্বস্ত করেছেন।