ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রংপুরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় নগরীর নিউ ক্রস রোডের গুপ্তপাড়ায় জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
“স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক চিনু কবির। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির ন্যায়পাল অ্যাডভোকেট রায়হান কবীর। এছাড়া বক্তব্য দেন কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কনক রহমান, ছাত্র সংগঠক শাকিল আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিজয় অর্জিত হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে প্রতিবারই একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ক্ষমতা দখল করে জনগণের প্রত্যাশা ভঙ্গ করেছে।
প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট রায়হান কবীর বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনী ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে তা থেকে সরে আসা হয়। তিনি বলেন, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান মূলত সরকার পতনে সীমাবদ্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলো প্রমাণ করেছে—শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, স্বৈরতন্ত্র রোধে রাষ্ট্র ও সংবিধানের মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কনক রহমান বলেন, অতীতে বারবার দেখা গেছে, আন্দোলনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ভঙ্গ হয়েছে। তাই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের নেতৃত্ব সুবিধাবাদীদের হাতে ছেড়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বলা হয়, শাসকগোষ্ঠী গুম, নজরদারি ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে জনগণকে মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনার বাইরে রাখতে চায়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আন্দোলনের পাশাপাশি সুস্পষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে চিনু কবির বলেন, কেবল ক্ষমতার পালাবদল জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে না। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কার এবং অর্জিত বিজয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নে অবিচল থাকার বিকল্প নেই।