অনুদানভুক্ত ১৫১৯টিসহ অনুদান বিহীন সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সারাদেশের ন্যায় রংপুরেও প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান কর্মসূচী পালিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন রংপুর জেলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ঐক্যজোট ও শিক্ষক পরিষদ নেতৃবৃন্দ। এরপর তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অনুদানভুক্ত ১৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিও আবেদন অনলাইনেও গ্রহণ করা শেষে যাচাই-বাচাই করা হয়। কিন্তুু তালিকা ও গেজেট প্রকাশ দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এনিয়ে একাধিক বার সরকারের উচ্চ মহলে যোগাযোগ করা হলেও সেই ঘোষণার কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়ায় সারাদেশের ন্যায় রংপুর জেলার শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ্য করা হয়, ১৯৮৪ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় মাত্র ১৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকদের ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করা হলেও, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও একটিও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলো অবহেলিত থাকায় হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও চাকরির নিরাপত্তা না থাকায় মেধাবী শিক্ষকরা এই পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। আমরা চাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া জাতীয়করণের ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়িত হোক।” তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান বিএনপি সরকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা গুলোর দীর্ঘদিনের বৈষম্যদুর করে এমপিও/ জাতীয়করণ ঘোষণা বাস্তবায়ন করবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক মাও: ওয়ায়েত উল্ল্যাহ, বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ রংপুর জেলার সভাপতি মাও: মোজাম্মেল হক, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক, মিঠাপুকুর উপজেলার আবু সালিম, মোসাদ্দেক হোসেন, সদর উপজেলার একরামুল হক, আজহারুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ সোহেল, পীরগঞ্জ উপজেলার ওয়ায়েত উল্ল্যাহ, নায়েব আলী, পীরগাছা উপজেলার মেহেদি হাসান সাজু, বদরগঞ্জ উপজেলার শাহজাহান, মমিনুল ইসলাম,ওবায়দুল ইসলাম,গঙ্গাচড়া উপজেলার মোজাম্মেল হকসহ রংপুর জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন।