লালমনিরহাটে হাতীবান্ধায় তিস্তায় জেগে উঠা চর থেকে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়েছ কৃষকদের মাঝে।নতুন ফসল ঘরে তুলতে আনন্দে মেতে উঠেছে চরের কৃষকরা। চলতি বছরে কয়েকবার আকস্মিক স্বল্প মেয়াদি বন্যার কারণে সম্পূরক সেচ ছাড়াই চরাঞ্চলে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।
তিস্তার চরে প্রতিবছর বন্যায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও এবছর তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারেনি সর্বনাশী তিস্তা। তবে ক্ষতি না হলেও এবছর অতিরিক্ত খরায় আমনের ফলন সুবিধাজনক পায়নি চরের কৃষক। ফলে চরে এ মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ফসল কম হলেও ধানের বর্তমান বাজার দরে সন্তুষ্ট তারা।
চরের কৃষকরা জানিয়েছেন, চলতি বছর দোন (২৭শতক) প্রতি ১০ থেকে ১২ মণ করে আমন ধান পেয়েছে তারা। প্রতি মণ ধানের বাজার মূল্য ১১'শ থেকে ১২'শ ৫০ টাকা। ফলে ফলন কম হলেও ধানের বর্তমান বাজার দরে লাভবান হবেন তারা। এ বছর সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি তাই আমন ধান উৎপাদনে খরচ বেশি। তবে বর্তমান ধানের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় লাভের আশা তাদের।
হাতীবান্ধার চর-সির্দুনায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রচন্ড রোদে তিস্তার চরে কৃষকরা আমন ধান কাটছে। অনেকে কাটা ধান ঘরে তুলতে নৌকা দিয়ে পার করছেন। আবার কেউ কেউ বালু চরের মধ্যেই ধান মাড়াই করে বস্তায় ভরছেন। তবে বেশিরভাগ কৃষকের বাড়ি নদীর তীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় নৌকা দিয়ে নদী পাড় করছেন। প্রচন্ড রোদে ক্লান্তি দূর করতে একটু বিশ্রাম নিতে গাছের ছায়ায় কিংবা ছোট টিনের চালার ঝুপড়ি ঘরে বসে ভাত খাচ্ছে মনের আনন্দে। চরে আমন ধান কাটা মানেই যেনো কৃষকদের মনে উৎসবের আমেজ।
হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে চলতি আমন মৌসুমে ২ হাজার ৩'শ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছে কৃষকরা। বর্তমানে চরে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যদিও এবার খরায় আমনের ফলন আশানুরূপ হয়নি,তবে স্থানীয় ধানের বাজার মূল্য বেশি থাকায় চরের কৃষকরা লাভবান হবেন।
তিস্তার চরের কৃষক সামছুল ইসলাম বলেন, গত বছর কষ্টে রোপা আমন ধান তিস্তা নদীর বন্যায় তলিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় ধান গাছে পচন ধরে। চলতি বছর তিস্তায় স্বল্প মেয়াদী বন্যা হওয়ায় ধান ভালো হয়েছে। এবার লাভবান হবো।
কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, এ বছর খরার কারনে আগের তুলনায় ধান কম হয়েছে। তারপরেও দোন প্রতি ১০/১২ মন করে ধান হবে। তাছাড়া এখন বাজারে ধানের দাম বেশি তাই এবার লাভ না হলেও লোকসান হওয়ার শঙ্কা নেই।
হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরাঞ্চলের আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বর্তমান বাজার মূল্য ভালো, কৃষকরা এবার মোটামুটি লাভবান হবেন। চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে ২ হাজার ৩'শ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এ ছাড়াও আমন ধান তোলার পর ভুট্টা, গম, আলু, শাকসবজি ইত্যাদি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে চরের কৃষকরা। কৃষি অফিস থেকে সবধরনের সহোযোগিতা করা হচ্ছে কৃষকদের।