রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

লালমনিরহাটে প্রণোদনার লোভ দেখিয়ে চলছে প্রতারণা


প্রকাশ :

লালমনিরহাট জেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে প্রণোদনা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চলছে প্রতারণা। এলডিডিপি প্রকল্পের খামারিদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে প্রতারক চক্র দাবি করছে, সরকার থেকে প্রণোদনা বা ভর্তুকির টাকা দেওয়া হবে। এজন্য তারা খামারিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও বিকাশ পার্সোনাল নম্বর চাইছে। অথচ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বলছে, এমন কোনো সরকারি উদ্যোগ বর্তমানে চালু নেই।

এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি নং ৬৫৩, তারিখ: ১১/১১/২০২৫) করা হয়েছে।

ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে দুটি অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর (০১৭৮১-৯১৭২৪৭ এবং ০১৩৩৫৬২৭৮০) থেকে এলডিডিপি প্রকল্পের খামারিদের ফোন করে নিজেদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তা পরিচয়ে কথা বলে প্রতারকরা। তারা খামারিদের জানায়, “আপনাদের খামার সরকারের প্রণোদনা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। টাকা পাওয়ার জন্য দ্রুত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা বিকাশ নম্বর দিন।” অনেকেই বিষয়টি বিশ্বাস করে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে দেন।

পরে সদর উপজেলার খামারি আরিফ রহমান, মিন্টু মিয়া, এরশাদুল হক, নজরুল ইসলাম, মলিন মিয়া, হামিদুর, জাহিদুল, শিউলী বেগম, শাহিনুর বেগম, আনোয়ার ও মান্নান বিষয়টি প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ ও এলডিডিপি প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আসাদুল হাবিবকে জানান। তিনি তদন্ত করে এটিকে প্রতারণা বলে নিশ্চিত করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় সাধারণ ডায়রি করেন।

খামারি এরশাদুল হক, যিনি প্রতারকদের কল পেয়েছিলেন, তাকে বলা হয়েছিল, “আপনার খামারের জন্য ২০ হাজার টাকার প্রণোদনা দেওয়া হবে, বিকাশ নাম্বার ও ব্যাংক একাউন্ট নম্বর দেন।’ তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রাণিসম্পদ অফিসে জানালে তারা বলে এটা সম্পূর্ণ প্রতারণা।”

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বেলাল হোসেন বলেন, “সম্প্রতি বিভিন্ন খামারির কাছ থেকে এ ধরনের ফোনকল পাওয়ার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কেউ কেউ ব্যাংক একাউন্ট ও বিকাশ নম্বর দিয়ে ফেলেছেন। আমরা সবাইকে সতর্ক করছি—সরকারি কোনো প্রণোদনা প্রকল্প থেকে কখনোই ফোনে ব্যাংক তথ্য বা বিকাশ নম্বর চাওয়া হয় না। এমন কোনো কল পেলে কেউ যেন তা বিশ্বাস না করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিস বা থানায় জানান। সরকার খামারিদের উন্নয়নে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, কিন্তু এসব কার্যক্রম সবসময় সরকারি নিয়মে হয়, কখনোই ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে নয়। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: জাহাঙ্গীর আলমের সরকারি মোবাইল নম্বরে একধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

স্থানীয় খামারিরা বলছেন, দ্রুত এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।