রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রংপুরের কারমাইকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ১০৯ বছর পেরিয়ে দুইদিন ব্যাপি ১০৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত


প্রকাশ :

উত্তরাঞ্চলের অক্সফোর্ড খ্যাত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজের দুই দিনব্যাপী ১০৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। শিক্ষার আলো ছড়ানোর মধ্য দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব ও গুণাবলীসম্পন্ন মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবেই পরিচিত শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠ। উত্তর জনপদে শিক্ষা বিস্তারের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা এই বিদ্যাঙ্গনের ১০৯তম বর্ষপূর্তি উদযাপন ও তারুণ্য মেলা উপলক্ষে রয়েছে দুই দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ছিল সাজসজ্জার উৎসব ক্যাম্পাসজুড়ে। আলোকসজ্জাসহ ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। গৌরবময় পথচলার ১০৯ বছরপূর্তি উৎসবের প্রথম দিন সোমবার রয়েছে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, কেককাটা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের জি.এল. হোস্টেল মাঠে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহম্মদ রেজাউল হক। এরপর একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে আয়োজিত আলোচনা সভা, কেককাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠেন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শুভানুধ্যায়ীরা। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমজাদ হোসেন, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসমাইল হোসেন সরকার, সরকারি সিটি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন, কারমাইকেল কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান, কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর দিলীপ কুমার রায়।

১০৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. সাইফুর রহমান জানান, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তানি শোষণ ও বাংলাদেশ সৃষ্টির আন্দোলন-সংগ্রামসহ নানা প্রেক্ষাপটের সাক্ষী কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত বছরের যে গৌরব, অর্জন তা অবিস্মরণীয়। উত্তরের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ কারমাইকেল কলেজের ১০৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে নবীন-প্রবীণ শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো ক্যাম্পাস। দুই দিনের এ আয়োজনের সমাপনী দিনে (১১ নভেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

কারমাইকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসঃ ১৯১৬ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তার নামানুসারেই কলেজের নামকরণ করা হয় কারমাইকেল কলেজ। ১৯১৭ সালের জুলাই মাসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই কলেজে আইএ ও বিএ ক্লাস খোলার অনুমতি দেয়। সেই সময় থেকে প্রায় দুই বছরের জন্য কলেজটির পঠনপাঠনের কাজ চলে রংপুরের বর্তমান জেলা পরিষদ ভবনে। এরপর ১৯১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কারমাইকেল কলেজের মূল ভবনের উদ্বোধন করা হয়। জার্মান নাগরিক ড. ওয়াটকিন ছিলেন কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে রয়েছে অনেক কারণ আর স্বপ্ন। ১৮৩২ সালে মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য রংপুর জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে করে রংপুর অঞ্চলের মানুষ লেখাপড়ায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। ওই সময়ে কোনো কলেজ না থাকায় উচ্চ শিক্ষার জন্য এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভারতের কোচবিহারে যেতে হতো। একটি মানসম্মত কলেজ প্রতিষ্ঠা ছিল রংপুরবাসীর আজন্ম লালিত স্বপ্ন।

১৯১৩ সালে অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড ব্যারন কারমাইকেল রংপুর পরিদর্শনে এলে তার সংবর্ধনা সভায় কলেজ স্থাপনের দাবি উত্থাপিত হয়। রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার জমিদার এবং শিক্ষানুরাগীদের দানে সংগৃহীত অর্থ এবং জমিদারদের দান করা ৯০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে কারমাইকেল কলেজ। রংপুর নগরী থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে এই কলেজের অবস্থান। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৯টি বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। অবিভক্ত বাংলার যে কটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিপুল খ্যাতি অর্জন করেছিল, এর মধ্যে কারমাইকেল কলেজ রয়েছে প্রথম সারিতে। ইংরেজ আমলের অবিভক্ত বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার প্রসার ও প্রচারের জন্য অসামান্য খ্যাতির অধিকারী এই কারমাইকেল কলেজ। তৎকালীন রংপুর, দিনাজপুর অঞ্চলসহ অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়ি, আসাম ও সংলগ্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। এই কলেজ বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। ২০০১ ও ২০০৬ সালে দুটি পৃথক আইন পাসের মাধ্যমে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়, তবে আইন দুটি অদ্যাবধি কার্যকর হয়নি।