সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

ঈদ ঘনিয়ে আসলেও রংপুরে জমেনি পশুর হাট


প্রকাশ :

ঈদ ঘনিয়ে আসলেও রংপুরে জমেনি পশুর হাট| বিভিন্ন আকৃতি ও দামে গরু-ছাগল উঠেছে হাটে| তবে ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি| বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা হাটে আসছেন না বলে মনে করছেন বিক্রেতারা| যেসব ক্রেতারা হাটে হাটে ঘুরে পশুর দাম যাচাই করছেন|রংপুরের প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে এ বছর রংপুর বিভাগে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ লাখ উদ্ধৃত্ত কোরবানীর পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবে| এবার কোরবানীর ঈদে কোরবানীর পশু বিক্রির মাধ্যমে রংপুর বিভাগের অর্থনীতিতে যোগ হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা|

রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী বুড়িরহাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে দেশী, শংকরসহ বিদেশী জাতের পর্যাপ্ত গরু উঠেছে| রাস্তা থেকে শুরু করে হাটের মূল অংশ কোরবানীর পশুতে পরিপূর্ণ| বিক্রেতারা সারি সারি করা খুঁটিতে গরুগুলো বেঁধে রেখেছেন|বৃষ্টির কারণে কোরবানীর পশু ও মানুষের চলাচলে কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে হাটের কিছু অংশ| হাটে তোলা গরুগুলো সর্বনিম্ন ৮০ হাজার থেকে জাত ও আকার ভেদে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাকিয়েছেন বিক্রেতারা| ক্রেতারা তাদের পছন্দের কোরবানীর পশু বাছাইয়ে হাট ঘুরেছেন| অপরদিকে ছাগলের জন্য আলাদা স্থান করা হয়েছে| সেখানে দেশী ব্লাক বেঙ্গল, তোতাপুরীসহ বিভিন্ন জাতের ছাগল উঠেছে| বিক্রেতারা এসব পশুর দাম ১২ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার পর্যন্ত চাইছেন| 

রংপুর নগরীর খেড়বাড়ি এলাকার আজম মিয়া বলেন, ঈদ ঘনিয়ে এসেছে, তাই হাটে কোরবানীর পশু দেখতে এসেছি| আজ গরু কিনছি না| যেহেতু ঈদের আরও কিছু সময় রয়েছে, তাই হাটগুলো ঘুরে পশুর দাম যাচাই করছি| হাটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভাল রয়েছে|

নগরীর মাহিগঞ্জের জাফর মিয়া বলেন, এবার গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে| ঈদের এখনও সময় থাকায় বিক্রেতারা দাম ধরে রেখেছেন| ঈদ আসতে আসতে দাম কিছুটা কমতে পারে| এছাড়া বৈশি^ক অস্থিতিশীলতা ও নতুন সরকার গঠনের পর এখনও দেশের অর্থনীতি ¯^াভাবিক গতি ফিরে পায়নি| মানুষের হাতে সেই পরিমান টাকাও নেই| তাই বুঝে শুনে সাধ্যমত কেনার চেষ্টা করছি| 

গঙ্গাচড়ার চরের গৃহস্থ মোসলেম মিয়া বলেন, মুই বাড়িত গরু পুষিয়া বড় করছো| হাটোত তুলি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাম চাইছি| সবাই খালি গরু দাম করি যায়, কায়ো কেনে না| বৃষ্টিত কষ্ট করি নিয়া আসুন বেচাবার পানু না| 

চব্বিশ হাজারী গৃহস্থ জব্বার হোসেন বলেন, এ্যালা হাটোত ভিড় কম| সবাই ধরি আছে ঈদের দুই-একদিন আগোত কিনবে| মোর দেশী গরু একেবারের সুস্থ্য, চেহারাও মাশআল্লাহ| এই হাটোত না হইলে, সামনের হাটোত বেচবার পামো মনে করতোছি|   

জানা যায়, রংপুর জেলায় পশুরহাটের মধ্যে লালবাগ, বুড়িরহাট, তারাগঞ্জ হাট, পাগলাপীরহাট, বড়াইবাড়ি হাট, চৌধুরানী হাট, দেউতি হাট, নজিরেরহাট, পাওটানা হাট, কান্দির হাট, সৈয়দপুরহাট, মিঠাপুকুর বৈরাতি হাট, জায়গীরহাট, শঠিবাড়ি হাট, বালুয়াহাট, মাদারগঞ্জ হাট, ভেন্ডাবাড়িহাট,মধুপুর হাট উল্লেখযোগ্য| এছাড়া রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৩০৩টি স্থায়ী হাট রয়েছে| এদিকে গত কয়েক বছর ধরে বড় বড় খামারগুলো অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে খামার থেকেই গরু বিক্রি করছেন| বিশেষ করে ‘লাইভ ওয়েট’ এর মাধ্যমে কোরবানীর পশু নেয়ার চাহিদা বেড়েছে| ওইসব খামারগুলোতে পশু বুকিং দিয়ে রেখে আসে ক্রেতারা| ঈদের আগের দিন খামার থেকে ক্রেতাদের বাড়ি বাড়ি কোরবানীর পশু পৌঁছে দেয়া হয়| তাই দিন দিন হাটের ঝামেলা এড়িয়ে অনেকে কোরবানীর পশুর জন্য খামারের দিকে নজর দিয়েছেন| এদিকে হাটগুলোতে মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির দৌড়াত্ম রোধসহ জাল টাকার বিস্তার রোধে পুলিশ বিশেষ নজর দিয়েছে| সুস্থ্য পশু বিক্রি নিশ্চিতে কাজ করছে প্রাণি সম্পদ দপ্তর| 

রংপুর বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ দপ্তর থেকে জানা যায়, রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪টি ছোট-বড় খামারে এ বছর ২০ লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল, দু¤^া, ভেড়া কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে| রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় এ বছর প্রায় ১৫ লাখ কোরবানীর পশুর চাহিদা রয়েছে| বাকী কোরবানীর পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাটে চলে যাবে বলে প্রত্যাশা করছে প্রাণি সম্পদ দপ্তর| 

রংপুর বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বলেন, রংপুর বিভাগের হাটগুলোতে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে| হাটগুলোতে সুস্থ্য কোরবানীর পশু বিক্রি নিশ্চিতে কাজ করছি| এ বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ লাখ উদ্ধৃত্ত কোরবানীর পশু রয়েছে| এবার কোরবানীর ঈদে কোরবানীর পশু বিক্রির মাধ্যমে রংপুর বিভাগের অর্থনীতিতে যোগ হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা| আশা করছি খামারী ও গৃহস্থরা তাদের গরু-খাসির ন্যায্য দাম পাবেন|