বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানু গেরিলা লিডার ‘৭১ এক বিবৃতিতে জেলার সকল রণাঙ্গনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কতিপয় দলীয় মুক্তিযোদ্ধার অপপ্রচার ও কুৎসার প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বিবৃতিতে বলেন, গত ২৬ জুলাই বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজুর রহমানকে আহবায়ক করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ড অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে ওই ইউনিট কমান্ডকে নিয়ে অভিযোগ, বিতর্ক ও অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় তা বাতিল করে আমাকে জেলা ইউনিট কমান্ড কমিটি দাখিলের জন্য বলা হয়। আমি ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি দাখিল করি। পরে গত ২৩ আগস্ট আমার নেতৃত্বে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের শর্তসাপেক্ষে নতুন ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কমিটি নিয়ে আমি লালমনিরহাটে আসি এবং অন্য সদস্যদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে বলি। কিন্তু তারা স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়। কেননা তাদের অনেকেই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িত। অথচ অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হলে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকে পদত্যাগ করতে হয়।
আমি এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরকে অবহিত করি। তিনি নির্দেশ দেন- যারা স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে স্বাক্ষরদাতা রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি পুনরায় স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে দাখিল করি। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যবিশিষ্ট লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ড কমিটি পুনর্গঠন করে অনুমোদন দেয়া হয়।
কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৬ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট সাধারণ পাঠাগার সভাকক্ষে নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, কতিপয় স্বার্থান্বেষী মুক্তিযোদ্ধা ঈর্ষান্বিত ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। তারা গত ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন কমপ্লেক্সে অনুপ্রবেশ করে প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন করে নানার অপপ্রচার চালায়। এমনকি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে, যা অনভিপ্রেত।
তিনি বলেন, আমি একজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। গেরিলা লিডার হিসেবে ৬ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছি। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে প্রদত্ত ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রামাণ্য তালিকার ১৭৫ নম্বর খণ্ডে ৪২,৯৩৮ ক্রমিকে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত আছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কোনো জেলা ইউনিটকে অনুমোদন দেয় না— এই সামান্য বিষয়টিও তাদের ধারণা নেই।
তিনি আরো বলেন, আমার পরিবারকে রাজাকার পরিবার বলা হয়েছে। অথচ আমার পিতা মরহুম অলি উদ্দিন আহমেদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমার বাপ-দাদার আদি ও বর্তমান নিবাস কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের লোহাকুচি সীমান্তে। আমার পরিবারের তিনজনই ছিলেন রণাঙ্গনের সশস্ত্র গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। একই ব্যক্তি ও পরিবার কিভাবে রাজাকার এবং স্বৈরাচার হতে পারে? এই কথা শুনে মানুষ তো দূরের কথা, ঘোড়াও হাসবে।
তিনি বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের কমিটিতে থাকতে চান, তাদের অবশ্যই দল ও অঙ্গসংগঠন থেকে পদত্যাগ করে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে।
তিনি অহেতুক অপপ্রচার চালিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি এবং দাম্ভিকতা প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।