রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

বুড়িমারী শুল্ক স্টেশনে ব্যবসায়ীদেরকে হয়রানির অভিযোগ


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের (কাস্টমস) পরীক্ষণ কর্মকর্তা (আরও) শাহাজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদেরকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিয়ম মেনে পণ্য আমদানি করা হলেও পরীক্ষণের নামে বিভিন্ন সময় অনৈতিক সুবিধা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তিনি গাড়ি থেকে নামানো পণ্য ও ফাইল আটকে রেখে টাকা চান। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে ফাইল ঝুলিয়ে দেন। অনেক সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে মাসিক মিনিট ও ইন্টারনেট রিচার্জ পর্যন্ত নিয়ে থাকেন এছাড়াও তিনি এরআগে পাটগ্রাম ভ্যাট কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে সেখানেও অনিয়ম করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, শাহাজুর রহমান নিজেকে সৎ দাবি করলেও দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এ ধরনের আচরণের কারণে অনেকে বুড়িমারী দিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে দেশের অন্য স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। কোনো ব্যবসায়ী তাঁর শর্তে রাজি না হলে পরীক্ষণের নানা জটিলতা সৃষ্টি করে হয়রানি করা হয়।

একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও অভিযোগ করে বলেন, তিনি সবসময় নিজেকে সৎ হিসেবে তুলে ধরেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি দুর্নীতিপরায়ণ ও কৌশলী। পরীক্ষণের নামে টাকা দাবি করায় একাধিকবার তাঁর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায়ই তিনি উগ্র মেজাজে আচরণ করেন এবং অনেক সময় মুহূর্তেই সবকিছু অস্বীকার করে না জানার ভান করেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানির গতি ব্যাহত হচ্ছে।

স্থল শুল্ক স্টেশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে মন্দা চলছে। প্রতিদিন গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, ফলে রাজস্ব আয়ের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পরীক্ষণ কর্মকর্তা (আরও) শাহাজুর রহমান বলেন, “আমি এক টাকারও দুর্নীতি বা অনিয়ম করি না। আমি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করি। যাঁরা এসব বলছেন তাঁরা অসত্য বলছেন। আমার স্বচ্ছতা হয়তো অনেকের পছন্দ নয়, তাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার (এসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমি বিষয়টি শুনলাম। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী আমার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি।”