ডিমেনশিয়া জানুন, আলঝেইমারস্ চিনুন” Ask about Dementia ,ask about Alzheimer's এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার বাংলাদেশে বিশ্ব আলঝেইমার্স দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশ যৌথভাবে একটি সেমিনার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মধুমতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের সেমিনার টাইটেল ছিল “ডিমেনশিয়া সচেতনতা: স্টিগমা মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তির নিশ্চিতকরণ”(Dementia Awareness: Challenging Stigma and Promoting Inclusion)
দেশের বয়স্ক জনগোষ্টির একটি অংশ ডিমেনশিয়া নামক মস্তিষ্কের অসুখে আক্রান্ত। ডিমেনশিয়া সচেতনতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ডিমেনশিয়া বয়োবৃদ্ধির স্বাভাবিক কোন অংশ নয়। ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত অসুখ। ডিমেনশিয়া একটি গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা যা বিশ্বের বয়স্ক জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, এবং বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম নয়। তবে, এখন এটি শুধু বয়স্কদের মধ্যেই নয়, যুবকদের মধ্যেও (Young-onset dementia) দেখা দিচ্ছে, যা আমাদের জন্য আরো একটি আরো বড় উদ্বেগের বিষয়।
ডিমেনশিয়া অনেকগুলো রোগ লক্ষণের সমষ্টি । ডিমেনশিয়া শব্দটি এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যার ফলে মস্তিস্কের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমে ধীরে ধীরে অবনতিঘটে যেমন-স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, চিন্তা ও চেতনার পরিবর্তন, কিছু বলতে গিয়ে সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া বা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন এবং সামাজিক কর্মকান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। ব্যাক্তি বিশেষে ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক রূপ ভিন্ন হলেও সর্বশেষ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিগণ নিজের শারীরিক যত্ন নিজেরা করতে পারেন না এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীল হয়ে পরেন। সকল কাজে অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়। আর তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না। ধীরে ধীরে সমস্ত কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় ফলে বেঁচে থেকেও মৃতের মত তাঁদেরকে জীবন যাপন করতে হয়। যদিও এখন বর্তমানে ডিমেনশিয়ার কোনো নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক যত্ন ও সহায়তার মাধ্যমে রোগির জীবনমান উন্নত সম্ভব।
ডিমেনশিয়া স্টিগমা নয়, বা অভিশাপ নয়।ডিমেনশিয়া হলো মস্তিষ্কের একটি অবস্থা যা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় যা বার্ধ্যকের স্বাভাবিক অংশ নয়।
অনুষ্ঠানে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম সংক্রান্ত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মো: সাইদুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ডিমেনশিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। মো. আজিজুল হক, প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি জেনারেল, আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ডিমেনশিয়ার প্রভাব এবং সরকারের করণীয় তুলে ধরেন। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি, ডা. হালিদা হানুম, ডিমেনশিয়ার চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে বক্তব্য দেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, ড. ইমদাদুল হক তালুকদার, ডিমেনশিয়া কেয়ারের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেন।
ডিমেনশিয়া কেয়ারগিভারের বিশ্বব্যাপী চাহিদা এর উপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন আব্দুল্লা আল জুনায়েদ, সেচ্ছাসেবী, আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলদেশ।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী, দেশে মানসম্মত ডিমেনশিয়া কেয়ার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এনএসডিএ-এর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে, ডিমেনশিয়া আক্রান্ত তিনজন পরিবারের সদস্য তাদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এরপর, আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং এনএসডিএ কর্তৃক স্বীকৃত ডিমেনশিয়া কেয়ারগিভার লেভেল-৩ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। একই সাথে, প্রিয়জনের সেবা যত্নে অনন্য অবদানের জন্য ১০ ফ্যামিলি কেয়ারগিভারকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
প্রধান অতিথি, ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, ডিমেনশিয়া সংক্রান্ত পলিসি সুপারিশ বাস্তবায়নে তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সবশেষে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মো:সাইদুর রহমান খান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নীতিমালা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরে উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা, রোটারি ক্লাব ,Inner Wheel ক্লাবের সন্মানিত সদস্য, মেডিকেল স্টুডেন্ট , সমাজসেবী , সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।