গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে সাধারণ পাঠাগার সভাকক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানু।
সভায় লালমনিরহাট জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানানো হয়। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যে ৫টি উপজেলা কমিটির গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপজেলা কমিটিতে রণাঙ্গনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারাই অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা যদি রাজনৈতিক দল কিংবা উক্ত দলের অঙ্গসংগঠনের পদধারী ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবে তিনি কোন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। সর্বোপরি তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি ও তৈরিতে সহযোগিতা করেননি মর্মে অঙ্গীকারের নামায় স্বাক্ষর করতে হবে। এরপরে যদি কোন বিতর্কিত ব্যক্তি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সাব্যস্ত হলে থেকে বহিষ্কার করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের পত্রের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসককে মুক্তিযোদ্ধাগণের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা গনের সম্মেলন কক্ষ আহবায়ক কমিটির নিকট হস্তান্তর করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করবে। সেই সাথে রণাঙ্গনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার তালিকার প্রস্তুতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে বাতিল করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) প্রেরণ করবেন।
নবগঠিত জেলা আহবায়ক কমিটি এবং চলতি মাসে গঠিত উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে বাতিল পূর্বক সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
রণাঙ্গনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত এবং মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেয়ায় সার্বিক সহযোগিতা জন্য জেলার সকল রাজনৈতিক দল , তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মীসহ সর্বস্তরের ব্যক্তিগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
সভায় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল হক, সদস্য সচিব এমএ কাশেম, সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক , রশিদুল হক খান, আব্দুল কুদ্দুস , আব্দুল কাদের ও মেহেরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।