রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

বাংলাদেশের ইতিহাসে সিন্ডিকেট ছাড়া কখনো হাসপাতাল চলেছে এটা বলা যায় না- রংপুরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম


প্রকাশ :

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সিন্ডিকেট ছাড়া কখনো হাসপাতাল চলেছে এটা বলা যায় না। দূর্নীতি অন্তর্বর্তী সরকারের আগে থেকেই ছিল। আমরা একাই এ বিষয়ে কিছু করতে পারবো না। তাই জনগণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি যেন ক্রয় কার্যক্রমে ইজিপি’র মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা যায়। তাহলে টেন্ডার নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। আমরা আগামী মাস থেকে শতভাগ ইজিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাব।

শনিবার (২৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু জাফর, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালসহ অন্যরা।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, চিকিৎসকদের নিয়ে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যা বলেছেন তাদের খুঁজে বের করুন। যদি কেউ থাকে তবে তাদের কাউন্সিলিং করতে হবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬’শ বেডের হাসপাতালকে এক হাজার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে এক হাজার বেডের জনবল দেয়া হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে দুই হাজারেরও বেশি রোগী। তাহলে বাড়তি চাপ ডাক্তারদের নিতে হচ্ছে। করোনার সময় ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট অনেক মারা গেছেন। এরপরেও তারা সেবা দিয়ে গেছেন।বিগত দিনে পোস্টিং নিয়ে অনেক নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার নার্স ঘাটতি রয়েছে। এই প্রথম সাড়ে ৩ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এনিয়ে কোন প্রশ্ন উঠে নাই।  তাদের ম্যানুয়ালী কোন পোস্টিং দেয়া হয়নি। যাতে মানুষ টাকা খেতে না পারে। পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকে চয়েজ দিয়েছেন। তাদের মেধার ভিত্তিতে পদায়ন করা হয়েছে। সেই সাথে উত্তরবঙ্গের মানুষ উত্তরবঙ্গে এবং দক্ষিণবঙ্গের মানুষ দক্ষিণবঙ্গে চাকুরীর বিষয়টি চিন্তা করা হচ্ছে। এটি হলে পোস্টিং দিয়ে দূর্নীতি থাকবে না। 

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেখলাম হাসপাতালে নার্স নাই, ডাক্তার নাই, টেকনোলজিস্ট নাই। আমরা প্রথম ৭ মাসে ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছি। আগে চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় তিন বছর লেগে যেত। আশা করছি আগামী অক্টোবরে তাদের পোস্টিং দেয়া হবে। তাহলে ডাক্তাদের ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে।  

রংপুর ১’শ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নিয়ে তিনি বলেন, শিশু হাসপাতালে জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিয়ে কোন পরিকল্পনা ছিল না। তাই আমরা হঠাৎ করে কিছু করতে পারবো না। আমি ঢাকায় গিয়ে এটি চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেব। এছাড়া রংপুরে ৫৬০ বেডের হৃদরোগ, কিডনী ও ক্যান্সার হাসপাতাল হচ্ছে। এর বাজেট পাস হয়ে গেছে। এর কাজ আমরা শেষ করে যেতে না পারলেও পরবর্তী সরকার শেষ করতে পারবে।  

এর আগে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। বিকেলে নীলফামারী সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলে নতুন প্রস্তাবিত হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।