লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মডেল কলেজের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে শোকজ করেন অধ্যক্ষ হাছান আলী। স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সেই শোকজের জবাব অধ্যক্ষ নিজেই তৈরী করে অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন অফিস সহকারীর শফিকুল ইসলাম।
৯ আগস্ট শনিবার দুপুরে মডেল কলেজের অফিস সহকারীর শফিকুল ইসলাম তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, হাতীবান্ধা মডেল কলেজটির অধ্যক্ষ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতার মধ্যেও বিগত সরকারের আমলে কলেজটি এমপিও ভুক্তির ঘোষণা হয়। এর কিছুদিন পরে জুলাই ছাত্র অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জামায়াতের হাতীবান্ধা উপজেলা আমীর হাসান আলী। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসান আলী কলেজের প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম সহ কলেজের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞার স্বাক্ষর জাল করে এমপিও ভুক্তির ফাইল ডিডি অফিসে প্রেরণ করেন এবং ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারী এমপিও ভুক্তি হন। কিন্তু একই পদে একাধিক শিক্ষক কর্মচারীর জটিলতা থাকায় বাদ পরা শিক্ষক কর্মচারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেড়িয়ে আসে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে উক্ত শিক্ষক কর্মচারীর এমপিও ভুক্তির ঘটনা। যার সত্যতার প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছান তার দলীল পদ থেকে বহিস্কৃত হন এবং অধ্যক্ষ পদ থেকে তাকে শোকজ করেন সভাপতি। এর দায় থেকে মুক্তির জন্য তিনি মিথ্যা নাটক সাজিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমার উপর স্বাক্ষর জালিয়াতির অপবাদ দেন গণমাধ্যমে। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে শোকজ নোটিশ দিয়েছেন। শোকজের জবাব সরকারি ডাক যোগে আমি পাঠিয়েছি। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সে জবাব পাল্টিয়ে আমার স্বাক্ষর জাল করে স্বাক্ষর জালিয়াতির স্বীকারোক্তি মূলক জবাব তৈরি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গত ৭ আগস্ট। তিনি যে অপবাদ দিয়েছেন সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা বরং তিনি যে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ১৩ জনের এমপিও ভুক্তি করেছেন তা আমার কাছে স্বীকার করেছেন। এর অডিও রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষণ আছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাতীবান্ধা মডেল কলেজের অফিস সহকারীর শফিকুল ইসলাম তার সম্মান ক্ষুন্ন করার প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার দাবি করেন।