রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

দিনাজপুরে প্রতিরক্ষা কলোনির বেহাত হওয়া ৮১৫ একর জমি উদ্ধার নিয়ে সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশ :

 দিনাজপুর ঘোড়াঘাটে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পূনর্বাসনে বেহাত হওয়া ৮১৫ একর জমি উদ্ধার কার্যক্রমে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সেনাবাহিনী ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের কর্মকর্তারা।

 বুধবার (৬আগস্ট) দুপুরে ঘোড়ারঘাট উপজেলার প্রতিরক্ষা কলোনি এলাকায় মিলিটারী ফ্যামিলি রিহ্যাবিলিটেশন অফিসার (এমএফআরও) মেজর নাজমুল হায়দার জানান, ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজনের পর ভারত থেকে আসা সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের (মোহাজের) পূর্নবাসনের জন্য রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৩ হাজার ৫২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সেই সাথে এমএফআরও কর্তৃক সামরিক কলোনী গঠন, র‌্যাংক অনুযায়ী প্লটবরাদ্দ করা হয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এমএফআরওএর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হলেও পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘প্রতি রক্ষা কলোনী জমি বরাদ্দ ও রক্ষাণাবেক্ষন কমিটি’ গঠন এবং সেই কমিটির মাধ্যমে এমএফআরও এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ও পরে মোহাজেরদের স্থান ত্যাগ ও মৃত্যুও কারণে অনেক জায়গা খালিপড়ে থাকায় অবৈধ দখলদাররা দখলসহ জাল দলিল তৈরীর মাধ্যমে অবৈধভাবে জমি ক্রয়-বিক্রয় ও হস্তান্তর করে। এতে কওে প্রতিরক্ষা কলোনির জমি মালিকানা ও রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতা বৃদ্ধি পায়। 

এদিকে ঘোড়াঘাটের নুরজাহানপুর, খোদাদাতপুর, ওসমানপুর, হায়দারনগর ও আফসারাবাদ কলোনির ৪২৫ একর জমিতে ৭৬ প্লট ৯৯ বছরের লীজে, ১৩৫ একর জমিতে ২৭টি প্লট এক সনালীজে এমএফআরও-এরমাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পূনর্বাসন করা হয়েছে। এমএফআরও ওই ৫টি কলোনীর ১ হাজার ৩৭৫ একর জমির মধ্যে ৮১৫ একর জমির ১৫৯টি প্লটে বর্তমানে অবৈধ দখলদাররা রয়েছে। প্রায় সিংহ ভাগ বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে সম্প্রতি আইনী প্রক্রিয়া শুরু কওে এমএফআরও। ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলার রায় এমএফআরও পক্ষে আসলে স্বার্থান্বেষী মহল এমএফআরও এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপ-প্রচারে মেতে উঠে। সেই সাথে মানববন্ধন, স্বারকলিপি প্রদান কর্মসূচী পালনকওে জনগণকে এমএফআরও- এর মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। 

মেজর নাজমুল হায়দার বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পূনর্বাসনের জন্য অধিগ্রহণকরা জমিতে ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরের কোন সুযোগ নেই। মূলত যারা অবৈধ ভাবে প্লটগুলো দখল করে রয়েছেন তারাই এমএফআরওকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। অথচ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এমএফআরও এলাকায় জনকল্যাণ মূলক কাজ করে যাচ্ছে। যদি বৈধ কাগজ পত্রধারী আদালতের মাধ্যমে জমি পান, তবে সেখানে আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমরা রায় পাওয়ার পরও অনেক মানবিক আচারণ করে যাচ্ছি। এমএফআরও যে লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণকরে প্লট তৈরীকরে ছিল, আমরা সেইলক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। এতে সংক্ষুদ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ২৫ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর ফারাবী, ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাওসার জাহান, সরকারী কৌশলী অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন, ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম।