বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী,জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, বিএনপি হল মানুষের ভালবাসার দল। বিএনপি দির্ঘ ১৭ বছর গনতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এদেশের মানুষের জন্য লড়াই করেছি এবং সে লড়াইয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে এজন্য মানুষের মন জয় করে একটি জনপ্রিয় ভালবাসার দলে পরিনত হয়েছে।
তিনি মঙ্গলবার (৫ আগষ্ট) বিকেলে লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলা শাখার বিএনপির আয়োজনে, সরকারি আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুথানের বর্ষপূর্তিতে বিজয় র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,গত বছর ৫ আগষ্ট গনতন্ত্রের জন্য এদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাষক শেখ হাসিনার পতন হয়েছিল। তখন ছাত্র-জনতাসহ এদেশের লাখ,লাখ মানুষ রাস্তায় বেড়িয়ে আনন্দ উল্লাস ও বিজয় মিছিল করেছিল। আজকে ১ বছর পুর্তি সেই দিনটি আমাদের মাঝে আবারও চলে আসছে।
দুলু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শেখ হাসিনার আমলে যে নারকীয় তান্ডব,হত্যাকান্ড চালিয়েছে বিশ্বের অনেক ফ্যাসিস্টকে হার মানিয়ে তাদের রেকর্ড সে ভাঙ্গিয়েছে। পৃথিবীতে যদি কোন স্বৈরশাষকের সমিতি করা হয় তাহলে শেখ হাসিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হবে। আওয়ামীলীগের আমলে বিএনপির এমন কোন নেতা নেই যে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মি বাড়ীতে ঘুমাতে পারে নাই এমন কি তাদের পারিবারিক লোকজনের সাথে দেখা সাক্ষাত পর্যন্ত করতে পারেনি। মামলা-হামলা,গুম ও খুনে ভরপুর ছিল। সেই উৎড়াই পেরিয়ে আমরা গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছি।আমরাতো কাহারো সাথে কোন আপোষ করেনি। বিএনপি এখন পুড়ে পুড়ে খাটি সোনাই রুপান্তরিত হয়েছে তার প্রমান আজকের হাজার,হাজার লোকের উপস্থিত সমাগম দেখে। আর তারা বলছে বিএনপিকে নাকি খুজে পাওয়া যায় না।
১৭ বছর যাবৎ স্বৈরচার শেখ হাসিনা সরকার আমাদের উপর অনেক অন্যায়,অত্যাচার,জেল -জুলুম অপেক্ষা করে তার বিরুদ্ধে লড়াই,আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া গনতন্ত্রের জন্য ৬ বছর জেলাখানায় বন্দি থেকে মৃত্যূর সাথে পাঞ্জায় লড়েছিল কিন্তু স্বৈরশাষকের সাথে কোন আপোষ করেনি এবং খালেদা জিয়া আমাদেরকে রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। অথচ আওয়ামীলীগের এমন একজন নেত্রী তিনি কিংবা তার সন্তানদের রেখে পালিয়ে যায়। তাদের কি লজ্জা হয়না। এজন্য বিএনপি হল এমন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দেশপ্রেমিক দল। তার জন্য বিএনপি আজকে মাথা উচু করে মানুষের সামনে কথা বলার অধিকার পেয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ হল ভন্ড প্রতারক ও পলায়নকারী দল হিসেবে আখ্যাহিত হয়েছে। তারা যখনি ক্ষমতায় আসে সব-সময় তাদের স্বৈচার আচরন করে থাকত।
প্রধান অতিথি আরও বলেন,খালেদা জিয়া বলেছিল একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠনের মাধ্যমে ৫ বছর নির্বাচিত সরকার থাকার পর আবার যখন নির্বাচন আসবে তখন একটা নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন করে সরকার গঠন করা। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতার এসে নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে একাই নির্বাচন করে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়। আর দিনের ভোট রাতে করে জনগনের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরতন্ত্রের মত দেশ পরিচালনা করে এদেশের গনতন্ত্রকে কবর দিয়েছিল।তিনি মনে করেছিল যে আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন সে জন্য শেখ হাসিনা তত্বাবোধক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। যখন তারা ক্ষমতায় ছিল দেশের এমন কোন জায়গায় আওয়ামীলীগ ছিল যে গাছের পাতা পর্যন্ত আওয়ামীলীগ এতটাই জনপ্রিয় দল ছিল। এখন তারা কোথায় গেল। যখন কোন মানুষ অন্যায়,অত্যাচার জুলুম করে তার উপর আল্লাহর গজব করে। শেখ হাসিনা ক্ষমতার জন্য এতটাই বিমর্ষতা হয়েছিল যে হাজার,হাজার মানুষকে খুন,গুম,অন্যায় অত্যাচার,জুলুম করেছে,গনতন্ত্রকে হত্যা করে সাধারন মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে তোমার এদেশে থাকার কোন অধিকার নাই। সে এখন পালিয়ে পাশ্ববর্তি দেশ ভারতে বসে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন কোন লাভ নেই। এদেশের মানুষ আওয়ামীলীগকে প্রত্যাক্ষান কনেছে। কারন তারা জুলাই অভ্যূত্থানে দেশে রক্তের বন্যা বয়ে দিয়েছে।
সেই ম্বৈরচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দির্ঘ ১৭ বছর লড়াইয়ে আন্দোলন করে ফ্যাসবাদী আওয়ামীলীগ সরকারকে পতন করিয়েছি। যে একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন করে মানুষের স্বাধিনতা ও গনতন্ত্র ফিরিয়ে দিব। একটা সংসদ নির্বাচন হলে মানুষ তার নানা সমস্যা নিয়ে সংসদের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা বলবে এটাইতো জনপ্রতিনিধির কাজ। ১ বছর হয়ে গেল কোন সংসদ নাই,দেশে কোন আইন শৃংখলা নাই,দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি কে বলবে কার কথা।
একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য তিনি হুশায়ারী উচ্চারন করে বলেন,১৪ বছর শেখ হাসিনার বাতাস করেছেন এখন আবার পিআরও নির্বাচনের কথা বলছেন। আপনাদের যেখানে জীবনে কি একটি আসন পর্যন্ত পাননি। এটা কোন ধরনের ষড়যন্ত্র। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বর্তমানেও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত চলছে। সেই ষড়যন্ত্রকারী ফ্যাসিবাদী আমাদের মাঝে এখনও আছে। এধরনের ষড়যন্ত্র হলে বিএনপি ভোট ছাড়া নির্বাচন মানবে না। তাই আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে একটি সামনের বাংলাদেশ,সমৃদ্ধির বাংলাদেশ,সাম্প্রীতির বাংলাদেশ,মানবিক বাংলাদেশ,একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই তার জন্য আজকের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে আহবান জানান। বিএনপি হল জনপ্রিয় দল তারা সব-সময় নির্বাচনমুখী এদেশের বেশিরভাগ মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অধির আগ্রহে তাঁকিয়ে আছে।
আদিতমারী উপজেলা বিএনপি'র আহবায় আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক নাদিরুল ইসলাম মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, বিএনপির সহ-সভাপতি ও আদিতমারী-কালীগঞ্জ আসনের বিএনপির প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল,জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র নেতা আফজাল হোসেন,যুগ্ন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক,আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালেকুজ্জামান প্রামানিক, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক হাবিবুর রহমান হবি প্রমূখ।
এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা যুবদলের আহবায়ক ভিপি আনিছুর রহমান, সদস্য সচিব হাসান আলী,জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সাদেকুল ইসলাম,সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর খান,উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এ এইচ এম ইদ্রিস আলী, সদস্য সচিব হাসানুল হক বান্না,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আঃ হালিম ও সদস্য সচিব আমির হামজা নান্নু।
আলোচনা সভা শেষে ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুথানের বর্ষপূর্তিতে প্রধান অতিথির নেতৃত্বে একটি বিশাল বিজয় র্যালি সরকারি আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ বের হয়ে পাটগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বর হয়ে আবার একই স্থানে শেষ হয়।