রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় হাবিবুর রহমান সেলিম নামে এক সাংবাদিককে আটক করেছে যৌথবাহিনী। তার বিরুদ্ধে হিন্দুপল্লীতে হামলায় উসকে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এনিয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেফতার হলো ৬ জন।এদিকে আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামের হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় জড়িত যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার সাংবাদিক সেলিমের রিমান্ড শুনানী আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। রোববার দুপুরে তাকে গংগাচড়া আমলী আদালতে পাঠালে সিনিয়র জুডিশিয়াল-১ আদালতের বিচারক কৃষ্ণ কমল রায় আগামীকাল সোমবার উম্মুক্ত আদালতে শুনানীর দিন ধার্য্য করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম জানান, আগামীকাল সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে ওই আসামির রিমান্ড আবেদন করা হবে। তাকে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া হাবিবুর রহমান সেলিম তার ফেসবুক পেজে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে সরাসরি উস্কানি দিয়ে উত্তেজিত করেছে বলে তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।শনিবার(২ আগষ্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই সাংবাদিককে রংপুর সদরের হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে আটক করে গংগাচড়া থানায় সোপর্দ করে সেনাবাহিনী। পরে তাঁকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানন,গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান।শনিবার(২ আগষ্ট) দিবাগত রাতে ওই সাংবাদিককে তার নিজ বাড়ি রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানান, গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাতপুর ছয়আনি হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সরাসরি উসকে দেওয়ার অভিযোগে রংপুর থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকার পাগলাপীর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান সেলিমকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলাকারীদের উসকে দেওয়ার অনেক ভিডিও ও অডিও থাকায় তাকে আটক করে সেনাবাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে থানায় সোপর্দ করে।আলদাতপুরে হিন্দু পল্লীতে ভাঙচুরের মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়েছে। রোববার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রবীন্দ্রনাথ রায় বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে অজ্ঞাতনামা ১২‘শ জনকে আসামি করে মামলা করেন।এ মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের ছয়আনি হিন্দু পল্লীর সুজন চন্দ্রের ছেলে রঞ্জন রায়ের নামে ফেসবুকে মহানবীর (সা.) ব্যঙ্গচিত্র তৈরি ও অশালীন মন্তব্য লিখে একাধিকবার পোস্ট করে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। ২৬ জুলাই রঞ্জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ২৭ জুলাই কিশোরগঞ্জ সিঙ্গেরগাড়ি থেকে একটি মিছিল নিয়ে লোকজন ছয়আনি গ্রামে এসে হিন্দু পল্লীতে বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট করে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।