রংপুরে হামলার শিকার ছয় আনি গ্রামের হিন্দুপল্লী প্রশাসনের আশ্বাসে নিজ বাড়িতে ফিরেছে পরিবার গুলো স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্রামের পরিবেশ। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ফিরে এসেছেন বাড়ি ছাড়া ১৯ পরিবার। তবে অভিযুক্ত রঞ্জন রায়ের পরিবার এখনও বাড়ি ফিরেনি।অপরদিকে রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে হামলার ঘটনায় একজন ভোক্তভোগী বাদীহয়ে ১২০০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার রাতে একজন ভুক্তভোগী গঙ্গাচড়া থানায় মামলা করেন গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান বিষয়টি ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেন। গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় একজন মামলা করেছেন।এতে অজ্ঞাতনামা ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বাদীর নাম বর্তমান পরিবেশে প্রকাশ করা যাবে না বলে তিনি জানান।
পুলিশ বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ পেয়ে গত শনিবার রাতে এক কিশোরকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরদিন সাইবার সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। আদালত তাকে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। কিশোর রংপুরের একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী।এ ঘটনাকে কেন্দ্রকরে উত্তেজিত জনতা শনিবার রাতে নবী(স.)কে অবমাননাকারী কিশোরের বিচারের দাবিতে মিছিল করে। পরে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। একই সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা।রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে মাইকিং করে সেখানে লোকজন জড়ো করে ওই হিন্দু পল্লীর অন্তত ১৮টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে হামলায় ক্ষতি গ্রস্থ বাড়িঘর মেরামত করে দিচ্ছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গ্রামে এখনও সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোতায়েন রয়েছে ।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংগঠকঅনিন্দ কুমারনাথ বলেন, রঞ্জনের জন্য পুরো গ্রাম বাসী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রঞ্জন দোষী কিনা সেটি আইন দেখবে। কিন্তু যেভাবে দুস্কৃতিকারীরা হামলা চালালো তা কখনো একটি রাষ্ট্রের জন্য শুভ বার্তা নয়। সংখ্যাল ঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা চাই এ বিষয়ে সরকার তৎপর থেকে দোষীদেরকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুক। সেই সাথে হিন্দু পল্লীর অধিবাসীকে যথাযথ নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
রাতে এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল এমরান ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত রয়েছে। হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত ১২০০ জনকে। আসামিদের তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন কৌশলে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।ক্ষতিগ্রস্থদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো আতঙ্ক নেই, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রসঙ্গত,শনিবার(২৬জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে রঞ্জন কুমার রায় নামে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের এলাকার লোকজন এসে ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি মনে করে অন্য আরেকজনের বাড়িতে ভাংঙচুর ও লুটপাট চালান। পরে আরেক দফা হিন্দু পল্লীতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।এতে ১৮টির মতো পরিবারের ঘরবাড়ি তছনছ হয়। আতঙ্কে অনেক পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। হামলা ঠেকাতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।