লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ভাটিবাড়ী এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম (৪৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এলাকাবাসী। সোমবার (২১ জুলাই) সকালে তাকে আটক করা হয়। রফিকুল ওই ইউনিয়নের ভাটিগ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে।
গত ১১ মে লালমনিরহাট শহরের ভোকেশনাল মোড়ে সওদাগর কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে একটি ইজিবাইক থেকে ২২ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে র্যাব-১৩, রংপুরের একটি টহল দল। ওই সময় ইজিবাইকচালক শাখাওয়াত হোসেন (৪৮) কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর ১৯/৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়, যার মামলা নম্বর ২৬।
শাখাওয়াত র্যাবকে জানান, তিনি একজন ভ্যানচালক। ভাটিবাড়ী গ্রামের রফিকুল ইসলাম তাকে ফোন করে জনৈক মাহতাবের চাতাল থেকে তিনটি বাদামের বস্তা শহরের মিশনমোড়ে পৌঁছে দিতে বলেন। তিনি বস্তাগুলো তুলে আনেন, তবে জানতেন না সেগুলোর ভেতরে কী আছে। পরে জানা যায়, ওই বস্তাগুলোর মধ্যেই গাঁজা ছিল। ঘটনার পর রফিকুলকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। সে আশপাশেই থাকলেও র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ফলে র্যাব ইজিবাইকচালক শাখাওয়াতকেই আসামি করে থানায় মামলা করে।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর শাখাওয়াত প্রকৃত মালিক রফিকুলকে খুঁজতে থাকেন। তিন মাস পর স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি রফিকুলকে শনাক্ত করেন এবং এলাকাবাসী মিলে তাকে আটক করে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, রফিকুল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তার কারণে এলাকার উঠতি বয়সী তরুণদের অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। বহুবার সতর্ক করার পরেও তিনি গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে এলাকাবাসীর উদ্যোগেই তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। মাদক নির্মূলে এখন এলাকাবাসী একজোট হয়ে কাজ করছে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী বলেন, “রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে স্থানীয়রা আটক করে আমাদের খবর দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ১১ মে র্যাব-১৩ কর্তৃক উদ্ধার হওয়া ২২ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজার প্রকৃত মালিক বলে স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।