লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় সেনা টহলের সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রথমে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১৯ বোতল ফেনসিডিল, ৯ বোতল ‘ইসকাফ’, দুটি মোটরসাইকেল এবং দুটি ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের রামদা (হাঁসুয়া)।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত কালীগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের ২৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
ক্যাপ্টেন রওনকের নেতৃত্বে সেনা সদস্যদের নিয়মিত টহলের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চন্দ্রপুর বাজার এলাকায় গাঁজা ও ফেনসিডিল বিক্রি হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের কাছ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সেনাবাহিনী দ্রুত অভিযান চালায়।
প্রথমে আমিনুল (১৮) নামে এক যুবককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তার পিতার নাম মো. আব্দুল মান্নান।
তার দেওয়া তথ্যে লিটন মিয়া (৪২)-এর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মাদক এবং দুটি দেশীয় রামদা (হাঁসুয়া) উদ্ধার করা হয়। এ সময় কুখ্যাত মাদক সম্রাট লিটন মিয়া (পিতা: মৃত অধরা শেখ) কৌশলে পালিয়ে যায়। তার স্ত্রী আছিয়া আক্তার (২০) কে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে লুকিয়ে রাখা আরও ৫ বোতল ‘ইসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
একই পরিবারের আরও তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন– মো. নুর ইসলাম (পিতা: মৃত তসলিম উদ্দিন), মো. ইয়াকুব আলী (২০), মো. ওসমান গনি (২২)। উভয়ের পিতা মো. নুর ইসলামকেও আটক করা হয়েছে। এদের সবার বাড়ি কালীগঞ্জ থানার চন্দ্রপুর গ্রামে।
পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১৯ বোতল ফেনসিডিল, দুটি মোটরসাইকেল। মোটরসাইকেল দুটির ভেতরে বিশেষ কৌশলে রাখা ছিল আরও ৪ বোতল ‘ইসকাফ’, যা বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী আটককৃতদের কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। উদ্ধারকৃত মাদক ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালীগঞ্জের সীমান্তবর্তী জাওরানী, বুড়িরহাট বিওপি এলাকা, বিশেষ করে চাপারহাট, চন্দ্রপুর, খামারভাতি ও নওদাবাস এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানকারীদের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। তারা প্রায়ই জামিনে মুক্ত হয়ে একই অপরাধে আবারও জড়িয়ে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পলাতক লিটনের নামে ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। অধিকাংশ মামলায় সে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ফের চক্র চালিয়ে যাচ্ছে। এসব মামলায় আদালতে হাজিরা না দিয়েও টাকা পাঠিয়ে হাজিরা দেখানো হয়। বেশিরভাগ মামলাই কার্যত ‘ডিপফ্রিজে’ চলে গেছে, ফলে মামলাগুলোর অগ্রগতি প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণেই চোরাকারবারিরা মামলাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে অবশেষে এই চক্রের একটি অংশ ধরা পড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা সেনা অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সেনা-পুলিশের যৌথ অভিযানের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. রমজান আলী নিশ্চিত করে জানান, "আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।"