রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

কালীগঞ্জে ইটভাটা মালিক ও মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনাহাট মোস্তফাবিয়া কামিল মাদ্রাসার মুফাসসির ও হাতীবান্ধা উপজেলা ইমাম কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল কাদের এবং হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সেলিমের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

মাদ্রাসার রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র রায় অভিযোগ করেছেন, ইট দেওয়ার কথা বলে আব্দুল কাদের তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে চেকটি ডিজঅনার হলে তিনি লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং-৯৯/২৫) দায়ের করেন। অন্যদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাহেদার রহমানও কম দামে ইট পাওয়ার শর্তে ২৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে ইট সরবরাহ না হওয়ায় তিনিও পৃথক একটি মামলা (নং-৩৫৫/২৫) দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা কালীন আব্দুল কাদের ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সেলিম যৌথভাবে “মেসার্স জে. আর. এস. ব্রিকস” নামে ইটভাটা স্থাপন করেন। এরপর বিভিন্নজনের কাছ থেকে অগ্রিম ইট বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। এ সময় টাকা দাতাদের গ্রান্টার হিসাবে আব্দুল কাদের নিজের নামে চেক না দিয়ে শামসুজ্জামান সেলিমের নামের ব্যাংক একাউন্টের চেক দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। 

এ ছাড়া এলাকাবাসী ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আব্দুল কাদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর হজ্ব ও ব্যবসার কারণে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলেছেন। ২০২৪ সালে হজ্বের কারণে তিনি ৪১ দিন, ২০২৫ সালে ৩৩ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। শুধু তাুই নয়, প্রতিবছর বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনরোষের আশঙ্কায় তিনি সপরিবারে নিজ বাড়ি ছেড়ে কাকিনা এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলে ফোন কেটে দেন। মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জানান, অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই; তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, তার ব্যবসায়িক অংশীদার শামসুজ্জামান সেলিম কয়েক কোটি টাকার চেক জালিয়াতির একাধিক মামলায় পলাতক। সেলিমের ভাই ড. শহিদুজ্জামান সোহেল বলেন, “কাদের হুজুর তার সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিজমা কবলা করেছেন। এখন ভাই চরম সংকটে।”

একজন ধর্মীয় শিক্ষক হয়েও আর্থিক দুর্নীতি ও প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।