রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

সংস্কার ও বিচার দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া বিচার দশ বছর পরেও করা যাবে বিচারের জন্য অপেক্ষা করলে ৫০ বছরেও নির্বাচন করা যাবে না- জিএম কাদের


প্রকাশ :

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, সংস্কার ও বিচার দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া। বিচার দশ বছর পরেও করা যাবে। বিচারের জন্য অপেক্ষা করলে ৫০ বছরেও নির্বাচন করা যাবে না। দেশে সংস্কারের নামে সার্কাস চলছে। দেশের রাজনীতি, প্রেক্ষাপট, ইতিহাস, সংস্কৃতি, মানুষ কোনটা গ্রহণ করবে, কোনটা গ্রহণ করবে না তা সরকার জানে না। এই মব তন্ত্র দিয়ে ইলেকশন সম্ভব হবে না। যে দল নিবন্ধন হয়নি সেই দলকে নিয়ে সরকারকে ঠিক করে কি হবে, কি হবেনা। বর্তমান সরকারের কোন সংস্কারই দেশের মানুষ গ্রহণ করে নাই। নারী সংস্কার, মিডিয়া সংস্কার, এনবিআর সংস্কার কোনটিই বাস্তবায়ন করা যায়নি। এ সরকার বড় দল হিসেবে আমাদের ও আরেকটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়েছে। দেশের ৫০ ভাগ লোককে বাদ দিয়ে তারা সংস্কারের কথা বলছেন। সেই সংস্কার কি আগামীতে পার্লামেন্টে পাস হবে। সরকারের লক্ষ্য সংস্কারের নামে একতরফা নির্বাচন করে দেয়া। 

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে নগরীর পল্লীনিবাসে জাতীয় পার্টিও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 


জিএম কাদের বলেন, তিনি বলেন, বিগত সময়ে আমি বারবার বলেছিলাম বিএনপি-জামায়াতকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা যাবেনা। তাদের ছাড়া নির্বাচন হলে তা অবাধ, সুষ্ঠু হবেনা। দেশের সকল মানুষ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে। সকলকে নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। আমি আওয়ামীলীগের পক্ষের লোক নই। তবু বলছি আওয়ামীলীগকে কিসের ভয়। তারা তো আধমরা অবস্থায় আছে। নির্বাচনে আসেন, কে পাস করবে করুক। এই মব তন্ত্র দিয়ে ইলেকশন সম্ভব হবে না। যে দল নিবন্ধন হয়নি সেই দলকে নিয়ে সরকারকে ঠিক করে কি হবে, কি হবেনা। 

মব নিয়ে জিএম কাদের বলেন, মব তন্ত্র বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। মব তন্ত্র থাকা অবস্থায় তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকরতে পারবে না। আইন শৃঙ্খলারক্ষা না হলে দেশে বেকার সমস্যা বাড়বে। মিল-ফ্যাক্টরী বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। দেশে ইনভেস্টমেন্ট বাড়ছে না। এতে করে বেকারদের সংখ্যা বাড়ছে। জিনিষ পত্রের দাম বাড়ছে, অভূক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।  অনেকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে মানুষের জমি-জমা, ব্যবসা-বাণিজ্য লুট করছে। 

দেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান দেশে চরম নিরাপত্তা হীনতা বিরাজ করছে। মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা, তানিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। আমরা গৃহযুদ্ধ, দূর্ভিক্ষ, ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছি। যারা এই মবকে ব্যবহার ও মবের শক্তি প্রদর্শন কওে মানুষকে হয়রানি করেছিল, তারা এখন সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। পুলিশ ও প্রশাসনের মনোবল শুণ্য করেছে। তারা এখন কাজ করতে পারছে না। আপনি যদি পুলিশ ও প্রশাসনকে কাজ করাতে না পারেন, তাহলে মব দিয়ে ইলেকশন হবে। সেটি কি দেশ-বিদেশে গ্রহণ যোগ্য হবে। 

তিনি বলেন, গণঅভ্যূত্থানের হত্যা নিয়ে মিথ্যা মামলা করে আমাদের নেতা কর্মীদের জেলে ঢোকানো হয়েছে। তাদের জামিন দেয়া হচ্ছেনা। অথচ আমাদের ছেলেরা অভ্যূত্থানে শহীদ হয়েছে। চার জন জেল খেটেছে। আমাদের মেয়রকে অ্যারেস্ট করার পরিকল্পনা করেছিল বিগত সরকার। জাতীয় পার্টির এত ত্যাগের পরও বিচার, চার্জশীট ছাড়া আমাদের ছেলেদের ৮ থেকে ৯ মাস ধরে জেলখানায় রাখা হয়েছে। বিচারের আগে কাউকে শাস্তি দেয়া যায় না। অথচ তারা কারাভোগ করছে। সরকার দেশে এ ধরনের শাসন চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সরকারের এই আচারণকে ভয় পাচ্ছিনা, এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। জনগণের পক্ষে কাজ করতে গেলে কষ্ট করতে হবে, ঝুঁকি নিতে হবে, জীবন দিতে হবে। এভাবে লড়াই-সংগ্রাম কওে জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাবে।    

দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে জিএম কাদের বলেন, যারা বিগত দিনে ব্যক্তি স্বার্থ, গোষ্ঠি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য জাতীয় পার্টিও রাজনীতি করেছে সেই সমস্ত লোক আর দলে থাকতে পারবে না। পুরাতন ঝান্ডা নিয়ে আর রাজনীতি করার সুযোগ নেই। জাতীয় পার্টি প্রয়োজনে বিলীন হয়েযাবে কিন্তু স্বার্থ বাদীদের সমর্থন করবে না, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রাজনীতি করবে না। যারা করতে চায়, তারা নতুন দল করুক। যারা দলীয় প্রোগ্রামে আসেনা, তাদের চিহ্নিত কওে রাখুন। কারণ তাদের রাজনীতির সাথে আমাদের রাজনীতি খাপ খায়না। আমরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনীতি করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাব। 

মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দলের নব-নিযুক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আজমল হোসেন লেবু, জেলা যুবসংহতির সভাপতি হাসানুজ্জামান নাজিম, স্বেচ্ছাসেবক পার্টিও আহ্বায় কফারুক আহমেদসহ অন্যরা। এর পর জাতীয় পার্টিও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা সহ দেশ ও জাতির কল্যানে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। শেষে পল্লীনিবাসে আমের চারা রোপন করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।