জাতীয় পার্টির নবনিযুক্ত মহা সচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন,বাংলাদেশ একটি মব রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে গেছে।সরকার দেশে মব তন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। মব বনাম সরকার, মব বনাম রাষ্ট্র হচ্ছে। আর এতে বারবার মব জয়লাভ করছে। রাষ্ট্র হিসেবে এটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর। আমরা হিংস্র জাতি হিসেবে পরিচিত ছিলাম না। আমাদের নিজস্ব সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য ছিল। কিন্ত মবের ঘটনায়, মবের ভয়ে সেই ঐতিহ্য ও সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে।
রবিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকা থেকে বিমানযোগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের পৈত্রিক নিবাস নগরীর সেনপাড়াস্থ স্কাউভিউ বাসভবনে এসে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
জাতীয় পার্টির নবনিযুক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, বর্তমান সরকার নিয়োগ কর্তা হিসেবে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের নাম একাধিকবার বলেছে। সেই নিয়োগ কর্তারা একটি রাজনৈতিক দল করেছে। সেই দলের প্রধান দেশের একজন মিনিস্টার ছিলেন। তার সহকর্মীরা এখনও মিনিস্টার রয়েছে। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সেটি নিরপেক্ষ হবে না। এনসিপি’র সাথে এ সরকারের ওতপ্রতো ভাবে সম্পর্ক রয়েছে। এনসিপি’র সাজানো ছকে গোটা দেশের প্রশাসনকে সাজানো হয়েছে। তাই সেখানে ভোট হলে সরকার এনসিপি বা কিংস পার্টিকে একাধিক সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করবে এটি সর্বজন স্বীকৃত। এখনও সুবিধা দিচ্ছে। আমরা আমরা মনেকরি সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তাদের প্রাথমিক নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে। এছাড়া এই সরকারের নির্বাচন দিতে যোগ্যতা বা ক্ষমতা কোনটি অর্জন করেনি বা করতে চায়নি। সরকারের সেই যোগ্যতা অর্জনের স্বদিচ্ছাও নেই। সরকার ভোটের রাস্তায় হাঁটছে না। বর্তমান সরকারের নির্বাচন মুখি পদক্ষেপ না থাকার কারনে রাজনৈতিক দলের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। পলিটিক্যাল ফ্রাস্টেশন বাড়ছে। বাংলাদেশে শীর্ষ থেকে তৃনমুল পর্যন্ত কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ একটি মব রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিহিংসা পরায়ন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখন দেশে একটি রাজনৈতিক সমাধান দরকার। যেটা আগামী দিনে জিএম কাদেরের মাধ্যমে এই রাজনৈতি সমাধান সম্ভব।তাছাড়া জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং সন্ত্রাসীর মধ্যে নেই। এজন্য জনগন আমাদের সুযোগ দিবে। কেননা জাতীয় পার্টির সময় মানুষ নিরাপদ ছিলো। জিএম কাদের সরকার গঠন করলে মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে মব তন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। মব বনাম সরকার, মব বনাম রাষ্ট্র হচ্ছে। আর এতে বারবার মব জয়লাভ করছে। রাষ্ট্র হিসেবে এটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর। আমরা হিংস্র জাতি হিসেবে পরিচিত ছিলাম না। আমাদের নিজস্ব সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু মবের ঘটনায়, মবের ভয়ে সেই ঐতিহ্য ও সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টি সর্বদা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলেছে। গত ১০ মাস দলের চেয়ারম্যান জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন। গত সংসদেও তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের বীর মুক্তিসেনা বলেছিলেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সাভার, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন করেছিলেন। রংপুরে চারজন গ্রেফতার হয়েছিলেন। সরকার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকার পরও সংস্কার প্রক্রিয়া আমাদের ডাকা হলো না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসায় আগুন দেয়া হলো। আমি বলবো, এই সরকার ভূল পথে হাটছেন।
জাতীয় পার্টি নিয়ে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ব্যতিত কাউন্সিল ডাকা অগণতানিন্ত্রক, বেআইনী ও অগঠনতান্ত্রিক। গত ২৫ জুন সকল জেলার প্রতিনিধিরা পার্টি অফিসে গিয়ে দলের চেয়ারম্যানের প্রতি সমর্থন দিয়েছে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। ২৮ জুন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে সভা করে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির রেজুলেশন পাস করা হয়। তৃণমূলের মতামত ও প্রেসিডিয়ামের সভার মাধ্যমে তাদের বহিস্কার করা হয়েছে। একটি দলের চেয়ারম্যান ছাড়া কাউন্সিল হতে পারে না। কেউ যদি রিফর্ম করতে চায় তাহলে তাকে গঠনতন্ত্র মেনে করতে হবে। বহিস্কৃতরা স্বেচ্ছায় বহিস্কার হতে চাচ্ছিলো। দলে শুদ্ধি অভিযান হয়েছে, দলকে সুসংগঠিত করা হয়েছে। দল আরও তীব্রগতিতে এগিয়ে যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাজিার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজমল হোসেন লেবু, রংপুর জেলা যুব সংহতির সভাপতি হাসানুজ্জামান নাজিমসহ অন্যরা। আগামী ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দলের চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা দিনব্যাপী নানা আয়োজনে অংশ নেবেন।