রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৫ উপলক্ষে সনাক লালমনিরহাট এর মানববন্ধন


প্রকাশ :

 ‘প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে সকলে, একসাথে এখনই’ এই স্লোগানে বিশ্ব পরিবেশ ২০২৫ উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) লালমনিরহাট এর উদ্যোগে আজ সকাল এগারটায় লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘প্লাষ্টিক দূষণ আর নয়’ (Ending Plastic Pollution)। পরিবেশ ও জীববৈচিত্রোর সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী সচেতনা সৃষ্টি, অধিপরামর্শ কার্যক্রম এবং এ সংক্রান্ত বহুমুখী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর ৫জুন বিশ্ব পরিবেশ পালিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে টিআইবি’র সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন।  Intergovernmental Negotiating Committee বা আইএনসি সভার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশ সমূহ হচ্ছে: প্লাস্টিক দুষণ রোধে-সংক্রান্ত চুক্তিটি দ্রুততার সাথে সম্পাদন করতে হবে। এক্ষেত্রে, জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব-সংশ্লিষ্টদের বাদ দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের জোরালো দাবি উত্থাপন করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে একত্রে কাজ করা; চুক্তির আওতায় ২০৪০সালের মধ্যে প্লাস্টিক তৈরিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যর শতভাগ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের দাবি উত্থাপন করা; প্লাস্টিক দূষণ রোধ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় দেশগুলোকে প্লাস্টিক উৎস থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের তথ্য স্বচ্ছতার সাথে নিরূপণ করা, সেই তথ্যর ভিত্তিতে এনডিসি’র তথ্য হালনাগাদ ও সংশোধন করে উপস্থাপনের দাবি উত্থাপন করা; চুক্তির আওতায় “দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নীতি” বা Polluter-pays principle এর ভিত্তিতে, প্লাস্টিক উৎপাদনকারীদের অবদান অনুযায়ী দূষণের দায় দূষণকারীকে গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে হবে।

একই সাথে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা; “ন্যাশনাল থ্রিআর স্ট্রাটেজি ফর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট” কৌশলপত্রটি হালনাগাদ ও সংশোধসহ পরিবেশ সংক্রান্ত বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির আলোকে একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন করা, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থাসহ একটি আধুনিক ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাগুলোর কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনসচেতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; প্লাস্টিক শিল্পের জন্য আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি ও অন্যান্য প্রণোদনা হ্রাস করে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণকে উৎসাহিত করতে হবে; অপ্রাতিষ্ঠানিক প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারীদের বর্জ্য  ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা; সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, বিশেষকরে উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব’ সম্পর্কিত নির্দেশিকাটির ব্যপক প্রচারণা নিশ্চিত করা; যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ এবং পরিবেশ দূষণ রোধে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; নদী জলাশয় ও পরিবেশের বিভিন্ন উৎসে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য অপসরণসহ পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রমে নাগরিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশের ক্ষতিসহ এখাত-সংশ্লিষ্ট অনিয়মের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে সনাক সভাপতি ক্যাপ্টেন অব. আজিজুল হক বীর প্রতীক, সহ-সভাপতি রাওয়ানা মার্জিয়া, সদস্য মোঃ রফিকুল আলম খান স্বপন, স্বপ্না জামান, রিয়াজুল হক সরকার, জাতীয় ও স্থানীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিক, ইয়েস-এসিজি সদস্যবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।