রংপুর সিটিকর্পোরেশনে অপসারিত জন প্রতিনিধিদের পূণঃবহালে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ মে) দুপুরে রংপুর সিটিকর্পোরেশনের সামনে সমাবেশে অপসারিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সিটি কাউন্সিলরসহ নগর বাসীর পক্ষে এ ঘোষণা দেন। ঘোষিত সময়ের মধ্যে দাবী আদায় না হলে ১২ জুন থেকে লাগাতার কর্মসূচী পালনে ঘোষণা দেয়া হলে তা ব্যবসায়ী-শ্রমিক সংগঠনসহ নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা মানুষজন সমর্থন করেন।
সিটিকর্পোরেশনে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে বুধবার দুপুরেন গরীর শাপলা চত্ত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বেরকরা হয়। রংপুর নগর বাসীর ব্যানারে এ মিছিলটি নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়, প্রেসক্লাব, জাহাজ কোম্পানী মোড়, পায়রা চত্ত্বর, টাউনহল সড়ক হয়ে সিটিকর্পোরেশনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাহমুদুর রহমান টিটু, মোখলেছুর রহমান তরু, মকবুল হোসেন, ফেরদৌসী বেগম, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জাবেদ হোসেন জুয়েল, অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জাহেদুল ইসলামসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার রংপুর সিটিকর্পোরেশনকে উন্নয়ন বঞ্চিত করেছে। জুলাই অভ্যূত্থানে রংপুর সিটিকর্পোরেশনের পরিষদ ছাত্র-জনতাকে পানি, ছাতা, অসুস্থ্যদের অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ নানা ধরনের সহযোগিতা করে আন্দোলনকে বেগবান করেছে। গণঅভ্যূত্থানের পরও সিটিকর্পোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলররা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। সেই সময় সিটিকর্পোরেশনের কার্যক্রমে কোন শূণ্যতা দেখা যায়নি।কিন্তু সরকার অন্য সিটিকর্পোরেশনের সাথে রংপুর সিটিকর্পোরেশনের পরিষদকেও অপসারণ করেছে।
বক্তারা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে সিটিকর্পোরেশনের পরিষদ গঠিত হয়েছিল। কোন ভোট কেন্দ্রে কারচুপি বা বিশৃঙ্খলা হয়নি। ওই নির্বাচনে মেয়র লক্ষাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই অবিলম্বে অপসারিত পরিষদকে পূনঃবহাল করতে হবে। সিটিকর্পোরেশনে জন প্রতিনিধি না থাকায় জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিসন সনদসহ নানা সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের।
সমাবেশে রংপুর সিটিকর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, এক দেশে দুই আইন চলতে পারেনা। চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাকে পূণঃবহাল করা হয়েছে, আমরা এটি সাধুবাদ জানাই। ঢাকা দক্ষিণ সিটিকর্পোরেশনে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে, আমরা এটিকেও সাধুবাদ জানাই। একটি স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগনের ভোটে নির্বাচিত পরিষদকে কেন পূনঃবহাল করা হবেনা, এটি নগরবাসী জানতে চায়।
বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রশাসক সিটিকর্পোরেশন পরিচালনা করতে পারছেনা। সিটিকর্পোরেশনে যে সাজানো বাগান ছিল, তা এই আমলারা নষ্ট করে ফেলছে। কোটি কোটি টাকার গাড়ি, যন্ত্রপাতি তেলের অভাবে চলছে না। এভাবে চলতে থাকলে সিটিকর্পোরেশনে শুধু ইট-পাথরের দালান থাকবে, আর কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকবেনা। এক সপ্তাহের মধ্যে সিটি পরিষদকে পূণঃবহাল না করলে ঈদের পর সিটিকর্পোরেশনের গেটের সামনে মঞ্চ তৈরী করে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।