রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রংপুরে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রনেতার পদত্যাগ


প্রকাশ :

রংপুর জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগ করেছেন।রোববার (২৫ মে) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা কমিটির ১ নং সংগঠক তৌফিক আহমেদ হৃদয় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের রক্তের সাথে করা বিশ্বাসঘাতকতা, সংগঠনের অভ্যন্তরে চাঁদাবাজ-দালালদের দাপট ও অপকর্মের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বৈছাআ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চরম নজরদারি হীনতাকে মূল কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এই সংগঠক।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তৌফিক আহমেদ হৃদয় বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যূত্থান ও আওয়ামী সরকারের পতন আমরা এক ধরনের ‘বিজয় ধরে নেই, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়-এই বিজয় ক্ষণস্থায়ী। তখন থেকেই আন্দোলনের গায়ে রাজনীতির দংশন পড়তে শুরু করে। ৭ আগস্ট প্রথম কমিটি বানানোর প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে 'জুলাই’ হারিয়ে যেতে থাকে। আমি ঐদিন ফেসবুকে লিখি-আপনারা ছাত্রলীগ বিদায় করে নিজেরাই ছাত্রলীগ হয়ে উইঠেন না।দুঃখজনক ভাবে বৈছাআ যেই প্ল্যাটফর্ম আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ হাজার শহীদ ও আহত যোদ্ধার রক্তের ঋণে গড়া তা দ্রুতই একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর হাতে বন্দী হয়ে পড়ে। যেসব সদস্য আন্দোলনেই ছিল না, যারা হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসে কোনো এক অজানা জাদুর বলে তারাই রাতারাতি আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হয়ে ওঠে। কোনো রকম স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই হাস্যকর এই কমিটি প্রথম থেকেই শহর জুড়ে শিক্ষার্থী মহলে অবাঞ্চিত ঘোষিত হয়। বিশেষ করে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই কমিটি অবাঞ্চিত ঘোষণা করে।বৈছাআ এর নিয়ম অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে সদস্য পদ গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা ছিলো না। কিন্তু এর পরেও কিছু  রাজনৈতিক দলের গোপন কর্মী, আওয়ামীপন্থী গুপ্তচর, সাবেক গণঅধিকার পরিষদের সিন্ডিকেট  রংপুরের কমিটি দখল করে নেয়। এইভাবে সাধারণ ছাত্রজনতার আন্দোলন একটি পকেট কমিটিতে রূপান্তরিত হয়।আমার অবস্থান ছিল শুরু থেকেই স্পষ্ট। যতক্ষণ পেরেছি আমি এসব দালালচক্র ও অপকর্মের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সংগঠন যখন কেন্দ্রীয়ভাবে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়, তখন আর আমার হাতে তেমন কিছু ছিল না। এসব দেখে দ্রুতই আমি নিজেকে সরিয়ে নেই, নীরব পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকি। আমি অপেক্ষা করছিলাম, কবে এই বিশ্বাস ঘাতকতা গুলোর মুখোশ উন্মোচিত হবে। এখনো অনেক কিছু আসেনি, তবে আমি আশাবাদী একদিন সব বেরিয়ে আসবে।আজ আমি তীব্র ক্ষোভ ও গভীর ঘৃণা নিয়ে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা কমিটির ‘১ নং সংগঠক’ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করছি। আজ ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধতা থেকে আমার এই সিদ্ধান্ত, যেন কেউ না ভাবে আমরা সবাই নীরব ছিলাম।যারা আন্দোলনের রক্ত দিয়ে কেনা ব্যানারকে মামলা বানিজ্য - চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-সরকারি অফিসে দালালি ও ক্ষমতা দখলের সিঁড়ি বানিয়েছে, তাদের বিচারও একদিন হবে ইনশাআল্লাহ। যারা শহীদের রক্তকে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জুলাই চলবে। আমরা জান দিবো, জুলাই দিবো না।

তৌফিক আহমেদ হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম সংগঠনে নেই। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। তবে বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের মিডিয়া গ্রুপ থেকে আমাকে রিমুভ করে দেয়া হয়েছে। একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমাকে মিডিয়া গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দিতে তারা পারেন না।

এব্যাপারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

 প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে একযোগে ১৬ জন পদত্যাগ করেন।এর আগে গত ১৫ মে নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করেন জেলা কমিটির আরেক সদস্য মাহমুদুর রহমান লিওন।