সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ(২৫) নামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী শনিবার সকালে বসতঘরের ধর্ণার সাথে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস টেনে আত্মহত্যা করেছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বোতলা গ্রামের মোঃ আব্দুল জলিল মাস্টারের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ।
সোহাগ হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার ও এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, মাস দুই আগে পার্শ্ববর্তী দলগ্রাম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জহুরুল হকের মেয়ে চায়না খাতুনের সাথে সোহাগের বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় শ্বশুড় বাড়ী থেকে স্বর্ণালঙ্কার, বহু নগদ টাকা,দামী মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও আসবাবপত্র যৌতুক হিসাবে দেয়া হয়।
বিয়ের কযেক দিন যেতে না যেতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া কলহ শুরু হয়। স্বামী নেশা করতো,স্ত্রী মেনে নিতে পারতোনা। এমন পরিস্থিতে স্ত্রী বাবার বাড়ী বেড়ানোর কথা বলে আর আসতে চায়না। ঘটনার একদিন আগে সোহাগ তার স্ত্রীকে আনার জন্য শ্বশুড় বাড়ি যায়। সেখানে স্ত্রী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের সাথে কথার কাটাকাটি-ঝগড়া হয়। পর্যায়ে স্ত্রীকে রেখেই সে একাই বাড়ী চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, এমন পরিস্থিতে হয়তো সে আত্মহত্যা করতে পারে।
এলাকাবাসির জানিয়েছেন, সোহাগ ছাত্র হিসাবে মেধাবি ছিল। তবে,কিছুদিন থেকে সে নেশায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। বাবা মায়ের অতিরিক্ত আদর-প্রশ্রয়ের করনেই সোহাগ এমন পরিনতির শিকার হয়েছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, স্ত্রীর দাবী সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ও অন্যান্ন জিনিসপত্র সোহাগের বাবার কাছ থেকে নিয়ে মেয়েকে ফেরৎ দেয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার এসআই নুরুল হক ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করেন। মৃতের স্ত্রীর দাবীর না থাকলেও সোহাগের স্বজনদের দাবীর প্রেক্ষিতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এ ব্যপারে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে যথাযথ মামলা করা হবে।