বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে ২২ মে সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কৃষক সমাবেশ ও কৃষি উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচী পালিত হয়। হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র চালু করে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে সরকারিভাবে ৫০ লক্ষ টন ধান কেনা, কৃষক ক্ষেতমজুরদের স্বার্থে কৃষি খাত সংস্কার কমিশন গঠন, আসন্ন বাজেটে উন্নয়ন অংশের ৪০ ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দসহ কৃষক ক্ষেতমজুরদের দাবি আদায়ে গত ৫-২০ মে সারাদেশে দাবিপক্ষ পালন শেষে ঢাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহবায়ক আহসানুল আরেফিন তিতুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অজিত দাসের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসানুল হাবীব সাঈদ, আনোয়ার হোসেন বাবলু, আলাল মিয়া প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন- ' কৃষক ক্ষেতমজুররা দেশের অর্থনীতির প্রাণ। অথচ সকল সরকারের সময়ই তারা অবহেলিত, শোষিত। গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বাভাবিকভাবেই আশা ছিল কৃষকদের পক্ষে কৃষি খাত সংস্কারে বর্তমান সরকার পদক্ষেপ নিবে। কিন্তু অন্যান্য খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করলেও কৃষি খাত সংস্কারে কোন কমিশন গঠন করা হয় নি। কৃষক ক্ষেতমজুরদের স্বার্থে অবিলম্বে কৃষি সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে।
কৃষি খাতে প্রধান সমস্যা কৃষি উপকরণ ও ফসলের বাজার পুরোপুরি ব্যবসায়ি, মজুতদার, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। এই সিন্ডিকেট চক্র উচ্চ মূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে এবং সর্বনিম্ন মূল্যে ফসল বিক্রি করতে কৃষককে বাধ্য করে। ফলে প্রতিনিয়ত বেশি দামে উপকরণ কিনে কম দামে ফসল বিক্রি করে কৃষকরা লোকসান করে সর্বশান্ত হচ্ছে। কৃষি উপকরণ ও ফসলের বাজার ব্যবস্থাপনা কৃষক সমবায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিতে হবে।
এবছর আলু, পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় সর্বশান্ত হয়ে ইতিমধ্যে কৃষকরা আত্মহত্যা করেছে। ধানের দামের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করেছে মণ প্রতি ১৪৪০ টাকা কিন্তু বাজারে কৃষক ধান বিক্রি করছে ৭০০-৯০০ টাকা মণ। কারণ সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনছে না। এক্ষেত্রে আমরা দাবি করছি হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরকারিভাবে ৫০ লক্ষ টন ধান সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে কিনতে হবে।
আমরা অতীতেও লক্ষ্য করেছি প্রত্যেক সরকার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পক্ষে বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কারণ এই ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বেই সরকারগুলো পরিচালিত হয়। এই পরিস্থিতিতে কৃষক ক্ষেতমজুরদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া দাবি আদায়ের বিকল্প কোন পথ নেই।'
সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল কৃষি উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।