রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত


প্রকাশ :

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। প্রতি বছর এই দিনে সারাবিশ্বে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় “পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার সাংবাদিক ফাউন্ডেশন”-এর উদ্যোগে আজ শনিবার (৩ মে ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ছিল মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও র‍্যালি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির বিপ্লবী মহাসচিব মো. মুক্তার আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম পাখি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম এ হোসেন রানা, নকী মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান কে. এম. মাসুদুন্নবী নুহু, শেখ আলী আব্বাস, আব্দুস সালাম, আলামিন খান সাগর, রুমানা, নারগিস আরা, ঈশান মল্লিকা, বিনা আক্তার, রিয়া আক্তার প্রমুখ।

এবারের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল: ‘সাহসী নতুন বিশ্বে রিপোর্টিং: স্বাধীন গণমাধ্যমে এআই-এর প্রভাব’।

১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩ মে তারিখটিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর পর থেকে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকরা এ দিবসটি উদযাপন করে আসছেন।

দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো: সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা, গণমাধ্যমের মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ রোধে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত, ত্যাগী সাংবাদিকদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানো।

সংস্থার নেতারা বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে যেসব কালো আইন করা হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দাবিতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) প্রতি বছর ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক প্রকাশ করে। আরএসএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে এ সূচক প্রকাশ করে আসছে। চলতি বছর বাংলাদেশ ১৬৫তম স্থান থেকে উন্নীত হয়ে ১৪৯তম স্থানে এসেছে, যা আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন নেতারা।

তারা আরও বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বিকশিত হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ, পরিবেশন, প্রচার ও প্রযুক্তির ব্যবহারে উন্নতি হলেও সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সাংবাদিকরা এখনও হামলা, হয়রানি, মিথ্যা মামলা, গুম, অপহরণ এবং হত্যা ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্পাদকরাও নিরাপদ নন।

নেতারা বলেন, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কিছু আইন সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, বাস্তবে কিছু আইন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. মোক্তার আহমেদ বলেন, "বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমকর্মীরা এই দিবসটি পালন করেন সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের মৌলিক নীতিমালা রক্ষার জন্য। ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবন উৎসর্গকারী সাংবাদিকদের স্মরণ করে আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।"

তিনি আরও বলেন,"সাংবাদিকরা জাতির চতুর্থ স্তম্ভ। তারা সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। সত্য প্রকাশের কারণে হামলা-মামলা, ভয়ভীতি এমনকি জীবন দিতে হচ্ছে। আমরা চাই সাংবাদিকদের কলম হোক মুক্ত। তারা যা দেখবেন, তা যেন স্বাধীনভাবে লিখতে পারেন, কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই।"

তিনি দাবি জানান, "সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে এবং তাদের পেশার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। এটাই হোক এবারের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অঙ্গীকার।"