রংপুরের বদরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লাবলু মিয়া (৫০) নামে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিক সহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন।দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁটা, ছোরা-বল্লম, তীর-ধনুক নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংর্ঘষের পর থেকে বদরগঞ্জ পৌর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে বিএনপি’র দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিএনপি নেতা ইসতিয়াক বাবুর কাছ থেকে চুক্তি পত্রের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন জাহিদুল নামের এক ব্যক্তি। চুক্তি পত্রের মেয়াদ শেষ নাহলেও অজ্ঞাত কারণে থাকে দোকান ঘরটি ছেড়েদিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি দোকান ঘর ছেড়েনা দেওয়ায় মালিক পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকদিন আগে ভাড়াটিয়ার দোকান ভাংচুরকরে তাকে বেরকরে দেয়। এ নিয়ে শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে জাহিদুল তার ভাড়া নেওয়া দোকান ঘর ভাংচুরের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানব বন্ধনের আয়োজন করে। কিন্তু মানব বন্ধন শুরু হওয়ার আগেই দোকান মালিক পক্ষ ইসতিয়াক বাবরের পক্ষে সাবেক এমপি, জেলা ও উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন করিব মানিকের প্রায় দুই শতাধিক লোক জন এসে মানব বন্ধনের ব্যানার ফেস্টুন ও প্রচার মাইক ভেঙ্গে দেয়। এর কিছুক্ষন পর ভাড়াটিয়া জাহিদুল ইসলামের পক্ষে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম মানিকের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোকজন এলে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্ত ক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁটা, ছোরা-বল্লম, তীর-ধনুক নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। প্রায় এক ঘন্টা ধরে চলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে লাবলু মিয়া (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪৫), মোন্নাফ মিয়া (৫৫), ময়নাল হোসেনকে (৩৬) উদ্ধার করে প্রথমে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাবলু মিয়া (৫০) মারা যান। লাবলু বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর রাজারামপুর এলাকার মহসিন আলীর ছেলে। এদিকে সংঘর্ষ চলাকালীন বদরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব বারান্দায় অবস্থান নিলে সংঘর্ষকারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে সাংবাদিক ফুয়াদ হাসান, নুরুন্নবী নুরু, সাইফুল ইসলাম মুকুল মার ধরসহ তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্দার সেলিম মিয়া বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় দুপুরে লাবলু মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে তার লাশ হাসপাতালের হিম ঘরে রয়েছে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম.আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্তকরার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে।