পথিকৃৎ ইন্সটিটিউট অফ হেলথ স্টাডিজ( পি আই এইচ এস)এর আয়োজনে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পরিবাগস্থ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র ভবনে খাদ্য সংস্কৃতি ও তরুণদের মেদবহুল্য শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতিত্ব করেন পথিকৃৎ ফাউন্ডেশন এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সভাপতি অধ্যাপক ড: লিয়াকত আলী। অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মাদ শোয়েব। বক্তা ছিলেন প্রাণরসায়নবিদ ও জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক ড: হাফিজুর রহমান। আলোচক ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: আবু জামিল ফয়সাল, বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার মহুয়া।
খাদ্য সংস্কৃতি ও তরুণদের মেদবহুল্য বিষয়ে অধ্যাপক ড: হাফিজুর রহমান পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপিত বক্তব্যে বলেন,খাদ্য একটি জাতির সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উপাদান। আমাদের খাদ্য শুধু আমাদের রসনাকেই তৃপ্ত করে না, বরং আমাদের সমাজের সাংস্কৃতিক প্রতীক। প্রতিটি দেশের খাদ্যাভ্যাস তাদের ইতিহাস, জীবনযাত্রা এবং ভৌগলিক অবস্থানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের খাদ্য,আমাদের সংস্কৃতি দেশে যুগ যুগ ধরে একটি বৈচিত্রময় ঐতিহ্য বহন করে আসছে।ভাত, মাছ, মাংস, ডাল সহ বিভিন্ন মসলার ব্যবহার আমাদের খাদ্য তালিকার প্রধান উপকরণ। পাশাপাশি, অঞ্চলভেদে বিভিন্ন বিশেষ ঐতিহ্যবাহী খাবার শুধু আমাদের স্বাদে বৈচিত্র এনে দেয় না,বরং আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে তোলে ।
বাংলাদেশে খাদ্য সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়।এদেশের খাদ্যাভ্যাস মূলত ভাত,মাছ, মাংস, ডাল, শাক- সবজি এবং বিভিন্ন ধরনের মসলাদার খাবারের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তবে সম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন অনেকাংশে জীবনযাত্রা, ফাস্টফুডের প্রসার এবং প্রযুক্তি নির্ভর জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। এর ফলে তরুণদের মধ্যে মেদবাহুল্যের প্রবণতা উদ্বেগজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ফলে তরুণদের মেদবাহুল্য একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে।তরুণদের মধ্যে মেদবাহুল্যের ক্রমবর্ধমান হার ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার,পলিসিস্টিক ও ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস) এবং মানসিক সমস্যার মত গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।সম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে,বিশেষ করে শহুরাঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশী তরুণদের মধ্যে মেদবাহুল্যের হার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।গবেষণায় দেখা যায় যে, ঢাকার স্কুল-কলেজগামী তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ও মেদবাহুল্যের হার আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রধান কারণ হলো ফাস্টফুড গ্রহণ ও অলস জীবনযাপন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা( ডাব্লু এইচ ও) জানিয়েছে, যে শৈশবকালীন মেদবাহুল্যের তার হার বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক জীবনে জীবনযাত্রার অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে মেদবাহুল্যের সমস্যাটি মোকাবেলা করা সম্ভব। সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
পরে শিল্পী গুলজার হুসেন উজ্জ্বল ও ডা: জগদানন্দ সংগীত পরিবেশন করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।