রংপুরে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও জড়িত ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র-জনতা । ধর্ষণের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র-জনতা রংপুর নগরীর টাউন হলের সামনে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড হাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকে।এ সময় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা ।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরীর সামনের সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।বিক্ষোভে অংশ নেয় নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী ও জনতা। কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ, সদস্য সচিব ডা. আশফাক আহমেদ জামিল, মহানগর আহ্বায়ক ইমতিয়াজ ইমতি, সদস্য সচিব রহমত আলী, মূখপাত্র নাহিদ ইসলাম, সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ্ফকির সহ অন্যরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে রাস্তায় বসে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষককের ফাঁসির দাবিতে ‘ধর্ষকের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, ফাঁসি-ফাঁসি-ফাঁসি চাই’- স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।বিক্ষোভের পরে ধর্ষকের কুশপুত্তলিকার ফাঁসি দেওয়া হয়।
কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিম খান বলেন,এ দেশে এখন শিশুরাও নিরাপদ না। নারীরা রাস্তাঘাটে নিরাপদে বের হতে পারে না। তাহলে এ দেশের মানুষের রক্তে জুলাই আন্দোলন কেন হয়েছে।
নগরীর কালেকটরেট স্কুলের মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ নামে একজন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী বলেন, দেশে দিন দিন ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েই চলেছে অথচ প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারলে ছাত্র-জনতা বসে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি জানান তিনি।
আন্দোলন কারীরা জানান, চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে ফুলকুড়াতে গিয়ে শিশু ধর্ষণ হচ্ছে। বর্তমানে নারী-শিশুদের কোথাও নিরাপত্তা নেই। ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে পুলিশ-প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। উল্টো তারা ধীরগতিতে ধর্ষক গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এতে ধর্ষকরা পাড় পেয়ে যাচ্ছে এবং ধর্ষিতা ও তার পরিবার সামাজিক ভাবে হেও প্রতিপন্ন হচ্ছে। অবিলম্বে ধর্ষকদের গ্রেফতার করা না হলে আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৈষম্য বিরোধীছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ বলেন, বিগত কয়েক দিনে ১৭টি ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে।কিন্তু ধর্ষকদের গ্রেফতারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। দেশের বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে, এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ আর হতো না। দৃশ্য মান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি পায়রা চত্ত্বরে এসে সেখানে ধর্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ করে আন্দোলন কারীরা।সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগের দাবি জানান।