রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৯ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সমাজ সেবার মামলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত


প্রকাশ :

রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৯ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সমাজসেবার মামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। পাল্টাপাল্টি মামলাসহ উত্তেজনা বিরাজ করছে সাংবাদিকদের মাঝে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে নাগরিক সমাজসহ সচেতন মহল। উঠেছে সমালোচনার ঝড়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন রাজনীতিবীদরা। 

জানাযায়, পায়রা চত্ত্বরে একটি ভবনে ১৯৬৫ সালে রংপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর সড়ক প্রশস্ত করণে সরকার সেই ভবন প্রেসক্লাবের জমিটি অধিগ্রহণ করে তার বদলে জাহাজ কোম্পানীর সামনে স্টেশন রোডে জমিবরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা ভূমিমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নাম মাত্র মূল্য দিয়ে ওই জমিটি ক্রয় করে প্রেসক্লাবের নামে রেজিস্ট্রিসহ নিজস্ব অর্থায়নে ভবন গড়ে তোলে।১৯৯১ সালে প্রেসক্লাবের তৎকালীন কমিটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নেয়। এরপর থেকে সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ প্রেসক্লাবকে কমিটি নবায়ন করতে কোন চিঠি দেয়নি। গত বছর সাবেক সভাপতির অনিয়ম ও দূর্নীতিসহ লক্ষলক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়াযায় এবং তাকে ক্লাবের সদস্য পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।বিগত সরকার পতনের পর সম্প্রতি কতিপ নাম ধারী সাংবাদিকদের নিয়ে ক্লাব বহিস্কৃত সদস্য বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক আন্দোলনের নামে প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে সমাজ সেবার কাছে অভিযোগ করে এবং ভূয়া একটি কমিটি করে সমাজ সেবায় দাখিল করে। সেই সাথে সমাজ সেবাকে বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজ করে প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে অবৈধ হস্তক্ষেপের জন্য চাপ দেয়।সমাজসেবা এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের কাছে প্রায় ৩২ বছর ধরে রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করার অভিযোগ তুলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।এর প্রেক্ষিতে সমাজ সেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। সেই মামলা থাকাকালীন হঠাৎ করে ১৫ জানুয়ারী সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রেসক্লাব পরিচালনার জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক মন্ডলী নিয়োগ করে। এ আদেশের বিপক্ষে ন্যায্য বিচার চেয়ে প্রেসক্লাব পূনরায় সমাজসেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে আদালতের বিচারক সমাজসেবা কর্মকর্তাদের কাছে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগে কেন চিঠি দেওয়া হলো এবিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে স্ব—শরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এরপর অন্যান্য দিনেরমত ২২ জানুয়ারী ক্লাব খুলে সকল সাংবাদিক ক্লাবেপ্রবেশ করে। এ ঘটনায় ওই রাতে ক্লাবের বহিস্কৃত সদস্য ও কুচক্রী মহলের ইন্ধনে শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বাদী হয়ে মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোনাব্বর হোসেনমনা, সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলীসহ ১৯ সাংবাদিক এবং অজ্ঞাত কয়েক জনকে আসামী করে মামলা করে। 

রংপুর প্রেসক্লাবের প্রবীন সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, সমাজসেবার নিবন্ধন নেওয়ার পর তারা আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি এবং আমরাও সমাজসেবা থেকে কোন সুযোগ-সুবিধা, সহযোগিতা পাইনি। হঠাৎ করে একটি পক্ষের কাছে ম্যানেজ হয়ে সমাজসেবা হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতাকে বিতর্কিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি বলেন, সমাজসেবা দীর্ঘ দিনের নিবন্ধন নবায়ন না করায় তা জরিমানা সহ নিবন্ধন ফি নিতে পারেন। অন্যত্থায় নিবন্ধন বাতিল করতে পারেন। এর বেশি কিছুনা। কিন্তু তারা যা করেছে, তা কোন ক্রমেই সচেতন মহলে গ্রহণ যোগ্য নয়। 

রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মোনাব্বর হোসেন বলেন, গত ২০২৩ সালে প্রেসক্লাবের নির্বাচনে আমাকে বিএনপি আখ্যা দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পারেনি। দল, মত, নির্বিশেষে প্রেসক্লাব নিজস্ব গতিতে চলছে। মামলা চলমান থাকার পর বিতর্কিত সাংবাদিকদের পক্ষনিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর অবৈধ হস্তক্ষেপ করে রংপুরের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, অবগত হয়েছি। বিষয়টি যেহেতু সমাজসেবা, সেহেতু আমরা পর্যবেক্ষন করছি। তবে উপর মহলের নির্দেশে আমরা কাজ করে যাব।