রংপুর বিভাগের আট জেলায় বাংলা সালের মাঘের শুরুতেই ঠান্ডায় ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাশে হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানূষ। শুরু হয়েছে হাড় কাঁপানো শৈত্য প্রবাহ । হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। দু‘দিনে ধরে রংপুরে সূর্যের আলো দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।তিস্তা, ঘাঘট, করতোয়া, এবং যমুনেশ্বরী নদী দ্বারা বেষ্টিত রংপুর জেলার প্রকৃতি যেন কুয়াশার চাদরে মুড়ে গেছে।
মাঘের শীতে প্রকৃতির শীতল চিত্রে যেন বাঘ কাঁদছে। কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশে নিখোঁজ হয়ে গেছে এক রাশ সূর্যের ঝলকানির কিরন।গত দুদিনে সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত ঘনকুয়াশার কারণে রংপুরে সূর্য দেখা যায়নি। জেলার আলু চাষীরা আলূ গাছকে ঠান্ডা জনিত রোগ থেকে বাচাঁতে বিভিন্ন শীত নাশক ঊষুধ ক্ষেতে স্প্রে করছেন।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ২২ জানুয়ারী সন্ধা পর্যন্ত রংপুরের গ্রাম-গঞ্জ ও শহরের পথঘাট কুয়াশায় ঢাকা পড়ে।জেলার পিচঢালা সড়ক গুলোও শীশির বিন্দুতে ভিজে গেছে।গাছগাপালা ও সবুজ প্রকৃতি কুয়াশার কারণে ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
এই শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছে ছিন্নমূল ও অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষরা। শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।দিন মজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকদের আয়-রুজি কমে গেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঠাকুর গাঁওয়ে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। সূর্যোদয় সকাল ৬টা ৫২ মিনিটে হলেও সূর্য দেখা যায়নি।দুর্ঘটনা এড়াতে ভোর থেকে সড়ক ও মহাসড়কে ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।
নগরীর শাপলা চত্বর, কামারপাড়া, লালবাগ, তারিগঞ্জ, বড়বাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশার কারণে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কম ছিল।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য মানুষ বের হতে শুরু করেছে। যাতায়াতের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অভাব দেখা গেছে।
গত দু‘দিনে ঘনকুয়াশার সাথে হিমেল বাতাসের প্রভাবে রংপুরের ছিন্নমূল অসহায় মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। এই সময় শীতজনিত নানা রোগ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কম্প্রেক্রে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। পাশাপাশি, শীত নিবারণে আগুন জ্বালানোর ফলে অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত এক মাসে অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন মারা গেছেন এবং ৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮ জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জনান,রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ শাহিন শাহ।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোঃ রবিউল ফয়সাল জানান, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীতের শুরুতে ৩১ হাজার ৫০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে আরও কম্বল বিতরণের কাজ চলছে।