রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল আদালতের ১২ সদস্যের টিম


প্রকাশ :

রংপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ১২ সদস্যের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল আদালতের টিম।

এসময় তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে সেই দিনের ঘটনার বিবরণ শুনেন।হত্যার ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেছেন।আবু সাঈদসহ সকল হত্যা মামলায় শুধু নামে নয় মানে আন্তর্জাতিক বিচার নিশ্চিত করতে চায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রসিকিউটর  ব্যারিস্টার এস এম  মইনুল করিম।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ হত্যার ঘটনাস্থল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেটের সামন এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

ব্যারিস্টার এস এম  মইনুল করিম বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার অভিযোগ এক সপ্তাহ আগে ট্রাইব্যুনালে  অভিযোগ এসেছে। সে কারণেই তদন্ত করার জন্য ১২ সদস্যের একটি টিম রংপুরে এসেছি। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে এ ঘটনায় মামলা হবে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে। পরিদর্শনের সময় ঘটনার এস্কেচ ম্যাপ তৈরি সহ ভিসির কনফারেন্স রুমে ঘটনাস্থলে এবং  ভিসির কনফারেন্স রুমে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছাড়াও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মূলফুটেজ সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষা করবেন। জুলাই বিপ্লবের পর অনেক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছে। সেজন্য আজ আমরা রংপুরে এসেছি। যারা চাক্ষুষ ঘটনাস্থলে ছিলেন, আমরা তাদের কথা শুনব। তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে এ ঘটনায় মামলা হবে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে এবং গ্রেফতার অভিযান শুরু হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলায় অভিযুক্ত হবেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রসিডিউটর ব্যারিস্টার মইনুল বলেন,এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিযুক্ত হবেন কি না সেটিও তদন্তের পর বলা যাবে। জড়িতরা কেউই ছাড় পাবে না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হলে আবু সাঈদসহ অন্যান্য ঘটনায় আগের মামলাগুলোর কী অবস্থা হবে প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মইনুল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মামলা একটি ভিন্ন মামলা। শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় এর আগে যে মামলা হয়েছে সেই মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ওই মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার শামীম এবং আরমান হোসেন তদন্তকারীদের ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শওকত আলী বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের প্রতীক। আবু সাঈদ হত্যা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ায় আমরা খুশি। আমাদের দাবি এই মামলায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিদর্শন শেষে ব্যারিস্টার ময়নুল করিম জানান,আবু সাঈদ সহ বৃহত্তর রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। আবু সাঈদের হত্যাকান্ড সারা দেশে, এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আমরা এ ঘটনায় গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি।চিফ প্রসিকিউটরের নির্দেশে আমরা ১২ সদস্যের একটি দল তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছি।আবু সাঈদ ছাড়াও রংপুরে জুলাই আন্দোলনে নিহত সকল শহীদদের নিহত হওয়ার ঘটনার  তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন তারা। তিন দিনের সফর শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। 

প্রসঙ্গত,বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৬ জুলাই-২৪ দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে পুলিশের গুলিতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ মারা যান। এই ঘটনার পর আন্দোলনের বাড়তি মাত্রা পায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় ১৭ জুলাই পুলিশ আন্দোলনকারীদের নামে একটি মামলা করেছিল। এরপর আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী একটি মামলা করেন। এই মামলায় পুলিশের কনস্টেবল সুজন চন্দ্র, সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আমির হোসেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম গ্রেফতা হয়ে জেলহাজতে আছেন।