রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রংপুরে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধে মহানগর নাগরিক কমিটির সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশ :

রংপুর নগরীতে জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে হয়রানীমূলক প্রিপেইড মিটার স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ এবং প্রতিমাসে ডিমান্ড চার্জ,সার্ভিস চার্জ ও মিটার ভাড়া আদায় বন্ধের দাবিতে (৯ জানুয়ারী) বৃহস্পতিবার দুপুরে রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ হল রুমে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সংবাদ সম্মেলন করেছে। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নীপেন্দ্র নাথ রায়,এডভোকেট খায়রুল ইসলাম বাপ্পি,সাংস্কৃতিক কর্মী  নাসির সুমন,শ্রমিক নেতা রেদোয়ান ফেরদৌস,সবুজ রায়,সুভাষ রায়,মাহফুজ হোসেন প্রমুখ। 

লিখিত বক্তব্যে বাবুল নাগ বলেন,বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানী (নেসকো) রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ী, দোকানপাট, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রিপেইড মিটার সংযোগ কার্যক্রম শুরু করেছে।এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পূর্বে নেসকো কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মতামত গ্রহণ কিংবা একটি গণশুনানীর আয়োজন করা উচিৎ ছিল। কিন্তু জনমতের তোয়াক্কা না করে একতরফা ভাবে নেসকো কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত জবরদস্তি মূলক কায়দায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। প্রিপেইড মিটার পদ্ধতিতে গ্রাহকদের আগাম টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হবে। যতক্ষণ প্রি প্রেইড কার্ডে টাকা থাকবে ততক্ষণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে। যা সেবামুলক খাতের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক। বিদ্যুৎ আইন ২০০৩ এর ৫৬ নং ধারা মতে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে কোম্পানীকে ১৫ দিন পূর্বে নোটিশ দিতে হয়। এই প্রিপেইড মিটার কার্ডের রিচার্জকৃত টাকা শেষ হওয়ার সাথে সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। যা বিদ্যুৎ আইনের পরিপন্থি।মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের হয়রানী মূলক প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধে একটি রিট পিটিশন চলমান রয়েছে। যা নিষ্পত্তি হওয়ার পূর্বেই নেসকো কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে এই প্রিপেইড মিটার সংযোগের কাজ করছে।

বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এই প্রিপেইড মিটার সংযোগের সিদ্ধান্ত হয়।তৎকালীন সময়ে এই প্রিপেইড মিটার বাণিজ্যের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপু’র ভাই-বন্ধু নামে পরিচিত একটি চক্রের হাতে। সেই চক্রকে আরও প্রায় ১৫ লাখ মিটার সরবরাহের কাজ দিতে সক্রিয় সরকারের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি কোম্পানী। এজন্য দরপত্রে এমন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় নেসকোর জন্য ৮ লাখ মিটার কিনতে গত জুলাইয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এখন এই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ চলছে। ক্যাপিসিটি চার্জের নামে বিগত ১৫ বছরে ১ লাভ ৬ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এমনকি বিদ্যুতের স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের নামে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ৫ শত কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।বিতর্কিত এই প্রিপেইড মিটার সংযোগের মাধ্যমে গ্রাহকরা মিটার ভাড়া ও সারচার্জ বাবদ ৩০% আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির শিকার হবেন।কৃষিকাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পগুলো মওসুমের শুরুতে কৃষকরা বাকিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ফসল তুলে বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করে। বর্তমানে আর এই প্রিপেইট মিটার পদ্ধতিতে সেই সুযোগ থাকছে না। পাশাপাশি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করলে বিদ্যুৎ বিভাগের হাজার হাজার কর্মচারীকে পেশা হারিয়ে পথে বসতে হবে।সর্বোপরি এই প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের নতুন করে হয়রানী ও দুর্ভোগে ফেলবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়,বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল। রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বেসরকারি কোম্পানীগুলো গত ১০ বছরে ৫১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ জনগণকে।

 সংবাদ সম্মেলন থেকে জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে হয়রানীমুলক প্রিপেইড মিটার স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ,প্রতিমাসে ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ ও মিটার ভাড়া আদায় বন্ধ, গণশুনানী ব্যতীত গ্রাহকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা হতে বিরত থাকা,বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি রোধ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত,বিদ্যুৎ খাতের বিগত সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ, ঘুষ-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দুর করে বিদ্যুৎ বিভাগকে একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে অর্র্ন্ততীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।