রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

নিম্নমানের ভুট্টা বীজ কিনে কৃষকের মাথায় হাত, কৃষি বিভাগের অনীহা


প্রকাশ :

উত্তর জনপদের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে ৯০ এর দশক থেকে ভুট্টার চাষ হচ্ছে। ২০১৮ সালে থেকেই জেলাটি ভুট্টার জেলা হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে।

ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন  চাষিরা। ফলে ভুট্টাবীজের চাহিদা বাড়ছে হু-হু করে। সেই সুযোগে নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোম্পানির ডিলাররা বাহুবলি-৫৫৫,মাস্টার, পার্ফেক্ট ব্র্যান্ড নামে নিম্নমানের ভুট্টাবীজ বাজারজাত করছেন। এসব বীজের মধ্যে বাহুবলি বীজ একেবারেই গজায়নি। বাকিগুলোর অঙ্কুরোদগম হার কম এবং পোকায় খাওয়া; এমন অভিযোগ জানিয়েছেন একাধিক কৃষক। সারা দেশে ভুট্টাবীজ বিপণনের কয়েকটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে সাধারণ ভুট্টা কিনে পরে প্যাকেট করে বীজ ভুট্টা নামে বাজারজাত করে। উচ্চফলনশীল ভুট্টার বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে কৃষকদের অজ্ঞতার সুযোগে এসব সিন্ডিকেট ব্যবসা করছে। অনেক সময় তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ও পোকাধরা বীজ গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের হাতে গছিয়ে দেয়।

 নিম্নমানের বীজ কিনে প্রতারিত হওয়া হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিমবেজগ্রাম আমিনুর রহমান বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে বাহুবলি বীজ লাগিয়েছিলাম কিন্তু একটি বীজ গজায়নি। আমি লোন করে ভুট্টা বীজ লাগিয়েছিলাম আমার সব শেষ হয়ে গেল।

 পশ্চিম বেজগ্রামের আর এক কৃষক  আতিকুল ইসলাম বলেন,আমি ২বিঘা জমি জমিতে বাহুবলি ৫৫৫ ভুট্টা বীজ এবারে৬শত ৫০টাকার বীজ এবার ১১শত টাকা দরে কিনে  লাগিয়েছি কিন্তু কোন বীজ গজায়নি।

কৃষক সামশুজ্জোহা বলেন,আমি পার্ফেক্ট বীজ ও বাহুবলি বীজ প্রায় ৫ বিঘা জমিতে লাগিয়ে ঠকিয়েছি ।

হাতীবান্ধা উপজেলার বেজগ্রাম এলাকার কৃষক তসলিম বলেন,আমি এবারে জুম সিডের মাষ্টার ভুট্টার বীজ১১শত টাকা করে  কিনে প্রতারিত হয়েছি।আমি আজ আবার অন্য বীজ কিনে লাগাইতেছি। 

 অবশ্য গত বছর এ ব্র্যান্ডের বীজ ভালোই ছিল। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বীজ বিক্রেতা জানিয়েছেন, মৌসুম শেষে অবিক্রীত বীজ পরের বছর নতুন প্যাকেটে ভরে বিক্রি করা হয়। 

এবিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন,এখন পর্যন্ত কোন কৃষক আমার কাছে অভিযোগ করেনি। বীজ বিপণন বিভাগ এটা দেখার কথা।  তিনি বলেন, বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।