রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘রেলিভ্যান্ট’ এবং নির্বাচনে আসতে দেয়া হবে না- রংপুরে আখতার হোসেন


প্রকাশ :

‘বাংলাদেশের মানুষের ওপরে গণহত্যা চালিয়ে যে ভয়ঙ্কর পাপ আওয়ামী লীগ করেছে, সে পাপ থেকে মুক্তির এখন পর্যন্ত উপায় তারা অবলম্বন করেনি। ফ্যাসিবাদী, গণহত্যাকারী, মানবতাবিরোধী অপরাধকারী আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘রেলিভ্যান্ট’ এবং নির্বাচনে আসতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে জুলাই বিপ্লবে রংপুরের কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার আট শহীদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সাথে সাক্ষাতের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।এ সময় রংপুরের সংগঠক আলমগীর নয়ন, আরিফুলসহ জেলা মহানগর ও বিভাগীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ওপরে গণহত্যা চালিয়ে যে ভয়ঙ্কর পাপ আওয়ামী লীগ করেছে, সে পাপ থেকে মুক্তির এখন পর্যন্ত উপায় তারা অবলম্বন করেনি। আওয়ামী লীগের বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের সহযোদ্ধাদের খুনের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় খুনের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। তাদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না।

নতুন রাজনৈতিক দল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আখতার হোসেন বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক দল গুলোর লুটেরা এবং বুর্জোয়া হওয়ার যে মানসিকতা সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জাতীয় স্বার্থে জাতীয় বুর্জোয়া হতে হবে। দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করতে হবে। দেশের মানুষের সুবিধাগুলো দেখতে হবে এবং একই সাথে যে অর্থ পাচার হয়, সে কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। ‘আমরা জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ পেয়েছি।এখনো অনেক ফ্যাসিবাদী নীতি, অনেক পুরনো নীতি, কানুন, ব্যবস্থা রয়ে গেছে। আমরা চাইব, আমাদের যে সংগ্রাম ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তার জন্য জাতীয় নাগরিক কমিটির যে সংগ্রাম চলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যে সংগ্রাম চলছে, সারাদেশের মানুষের যে সংগ্রাম চলছে এই সংগ্রামের ভেতর দিয়ে বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ তার প্রান্তে পৌঁছাতে পারবে।

আখতার বলেন,বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে যখন অভ্যুত্থান হয় ছাত্র-তরুণরা বাংলাদেশের রাজপথ দখলে নেয়। বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তির জন্য তারা তাদের জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। ৫আগস্টের সময়কালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ আমরা দেখেছি। আমরা সেখানে নতুন এক রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক শক্তির উল্লম্ফন হবে। সেটাই আমরা সেদিনই দেখেছি। এই দীর্ঘ তিন-চার মাসের পথপরিক্রমায় বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনতার সাথে আমাদের যে যোগাযোগ হয়েছে এবং বিভিন্ন যে জরিপ গুলো আছে তাতে এটা অত্যন্ত সুন্দরভাবে দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে বাংলাদেশের মানুষ নতুন এক রাজনৈতিক শক্তি প্রত্যাশা করে। যে শক্তির নেতৃত্বে থাকবে তরুণরা। আমরা ছাত্র-তরুণরা মিলে যে রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা করার কথা বলছি, এই রাজনৈতিক দল আমরা মনে করি নাগরিক কমিটি যে ভাষার উৎপাদন করেছে সেই ভাষায় এই দলটি গঠিত হবে।বাংলাদেশের জন্য সার্বিকভাবে আমরা একটি মধ্যমপন্থী রাজনৈতিক চর্চা করতে চাই। যে রাজনীতির ভিত্তি হবে বাংলাদেশের স্বার্থ। এই স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়ার কেউ চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলাই হবে আমাদের কর্তব্য। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করাই হবে আমাদের জীবনের শপথ।

নাম চূড়ান্ত হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে আক্তার হোসেন বলেন, এরই মধ্যে আমরা অনেকগুলো নাম পেয়েছি। সেখান থেকে ছাত্র-জনতা এবং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের আকাঙ্খা অনুযায়ী একটা নাম আমরা সিলেক্ট করব।

দেশের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো উন্নয়ন হয়নি। এখনো পুলিশ কাজ করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব জায়গায় এখন আওয়ামী দোসর।অনেক জায়গায় মামলার ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। মামলা বাণিজ্য হচ্ছে। সরকার এসব ঠেকাতে ব্যর্থ। আমাদের দাবি, বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি মাঠে কাজ না করতে চায় তাহলে তাদেরকে সরিয়ে জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনকারী তরুণদের নিয়োগ দিয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে হবে।

পরে তিনি শহীদ পরিবারগুলোর বাড়িতে যান, সেখানে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের লোকজনের খোঁজ খবর নেন।