রংপুরে আগাম জাতের আলু উঠতে শুরু করেছে।এতে আলুর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দাম কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। বছরের শুরুতে নতুন আলুর ভালো দাম পেয়ে বেজায় খুশি আলু চাষিরা।
রংপুর কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে,চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৫ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।এর মধ্যে ১২-১৩ থেকে হাজার হেক্টরে চাষ হয়েেেছ আগাম জাতের আলু। জেলার জমি থেকে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের মধ্যে আলু উৎপাদনে রংপুর দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুতে তেমন পোকা মাকড়ের ক্ষতি হয়নি।
রংপুর জেলার তিস্তা নদীর চর সহ অনেক স্থানে আগাম জাতের আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আলুর ভালো ফলন হওয়ায় খুশি চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়,রংপুর সদর উপজেলার লাহিড়িরহাট এলাকার ক্ষেতে আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ক্ষেত থেকে কেউ আলু তুলছেন কেউ সেই আলু ট্রাকে বা অন্য বাহনে নিয়ে যাচ্ছেন সরাসরি বাজারে।
আলু চাষি আকমল হোসেনের জানান, আগাম জাতের আলুর ভালো উৎপাদন হয়েছে। জমিতে থাকা অবস্থায় আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে।প্রতি ১০০ শতক (একর প্রতি) এবার সব খরচ বাদ দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। আগাম আলুর কারণে এই লাভটা হচ্ছে।
জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার সাহাপুর গ্রামের আলু চাষি রহিম মিয়া বলেন, এবার আমি পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছি। আলুর ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে নতুন আলুর দাম এখন পর্যন্ত ভালো আছে। এমন আলুর বাজার থাকলে আলু চাষিরা লাভবান হবেন। তবে সবেমাত্র আলু উঠতে শুরু করেছে। পুরোদমে আলু উঠতে আরও সময় লাগবে। সে সময় পর্যন্ত দাম ভালো নাও থাকতে পারে বলে শঙ্কার কথা জানান।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর তালুক সাহাবাজ চরের আলু চাষী সোহরাব হোসেন বলেন, অন্য বছরের তুলনায় আগাম জাতের আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি একরে সাড়ে তিন‘শ মন আলু উৎপাদনের আশা রয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলার আলু ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা আলু ব্যবসায়ীরা আলু চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি মাঠের আলু ক্রয় করছি। এতে করে সব খরচ বাদ দিয়ে আমাদের কেজি প্রতি আলুতে ১ থেকে ২ টাকা লাভ হয়। এতে করে আলু চাষিরা আলু বিক্রিতে লাভবান হচ্ছে।মাঠ থেকে সরাসরি আলু কেনায় বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে আলুর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। বাজারে দাম কমে আসবে।
রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শষ্য) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান,এবারে আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৫ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে থেকে আগাম জাতের আলু বাজারে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ থেকে ৪ মেট্রিক টন আলু বেশি উৎপাদন হবে। আগাম আলুর কারণে বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং দাম কমে আসবে।