শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রংপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম, রংপুর মহানগরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষাকে ঘিরে দুপুর থেকেই কেন্দ্র এলাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক অভিভাবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন । শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে অভিভাবকদের এমন অংশগ্রহণে কেন্দ্রজুড়ে সৃষ্টি হয় এক মনোরম ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
পরীক্ষা উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরীর আমির এটিএম আজম খান, কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের রংপুর অঞ্চল পরিচালক রেজাউল করিম শাকিল এবং কিশোরকণ্ঠ রংপুর মহানগরীর চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান। এ ছাড়া পাঠক ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় এটিএম আজম খান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করে।
কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের রংপুর অঞ্চল পরিচালক রেজাউল করিম শাকিল বলেন, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পাবে।
কিশোরকণ্ঠ রংপুর মহানগরীর চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞাননির্ভর, নৈতিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের শিক্ষামূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার বাইরে নিজেদের প্রস্তুতি ও মেধা যাচাইয়ের সুযোগ পাওয়ায় ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পেয়েছে তারা। অন্যদিকে অভিভাবকেরা এ আয়োজনকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী ও প্রতিযোগিতামুখী করে তুলতে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ ও বিকাশে এ ধরনের আয়োজন শুধু একটি পরীক্ষা নয়, বরং তাদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, আত্মবিশ্বাস ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরির একটি কার্যকর উদ্যোগ।