উজানের পানির ঢল কমে যাওয়ায় রংপুরে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে ডালিয়া পয়েন্টে পানি কমে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর আগে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে করে রবিবার দিবাগত মধ্য রাতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানি কমতে থাকায় জলাবদ্ধতার উন্নয়ন ঘটে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর বিভাগ ও এর উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে আগামী দুই দিন ভারী থেকে অতিভারী এবং পরবর্তী তিন দিন মাঝারী ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। নদীর পানির এমন বৃদ্ধি ও হ্রাসে নদী-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা নদী ভাঙনের তীব্রতার আশঙ্কায় রয়েছেন। বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধিসহ বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।