সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে, লালমনিরহাটে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


প্রকাশ :

টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানিপ্রবাহ বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা নদী তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে কৃষকদের আবাদি জমি ও বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ মিটারে, যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে। এর আগে বিকেল ৩টায় পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে এবং দুপুর ১২টায় ১৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়িসহ তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে বালুচর, বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের জমি প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

তিস্তাপাড়ের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।” গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, “সকাল থেকেই পানি বাড়ছে। যদি এভাবে পানি বাড়তে থাকে, তাহলে আমনের চারা, বাদাম ও মিষ্টি কুমড়াসহ অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”

তিস্তা ব্যারাজের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে গেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাতের দিকে পানির স্তর আরও বাড়তে পারে।”