সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

ইরানে টানা দ্বিতীয় রাতে মার্কিন হামলা, নতুন করে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা


প্রকাশ :

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর ওয়াশিংটন এই অভিযান পরিচালনা করেছে বলে দাবি করেছে।

শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সর্বশেষ এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের নিকটবর্তী তাহরুই গ্রাম এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, শুক্রবারও একই অঞ্চলে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণ ও হামলার তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করেন, যদিও তেহরানও পাল্টাভাবে একই অভিযোগ করে আসছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বর্তমান অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে বাধ্য হবে।

এর আগে শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কোনো নাবিক হতাহত হননি এবং জাহাজে বহন করা তেলেরও ক্ষতি হয়নি।

সেন্টকম জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটিতে ২০ লাখের বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল এবং এটি আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

অন্যদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।