বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

মার্চে সড়কে প্রাণহানি ৬১৯, মোট দুর্ঘটনা ৬৭০


প্রকাশ :

গত মার্চ মাসে দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৬১৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬১৯ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫৪৮ জন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই সময়ে রেলপথে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার বড় একটি অংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। মার্চে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত এবং ১৯৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ৩০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন এবং আহত ১২২ জন।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের হার ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরির অংশ ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং বাসের হার ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অন্যান্য যানবাহনের অংশও উল্লেখযোগ্য।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ ক্ষেত্রে মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২ দশমিক ৪৬ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা, এবং ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানভিত্তিক হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩০ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংগঠনটির মতে, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে চলাচল এবং মহাসড়কের ত্রুটি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকাকেন্দ্রিক জনসংখ্যার চাপ কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।