বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

ত্রুটিপূর্ণ বিমানে তারেক রহমান, তদন্তে গুরুতর অনিয়ম


প্রকাশ :

বাংলাদেশ বিমানের একটি বোয়িং ৭৮৭–৯ উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকা সত্ত্বেও গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে এই উড়োজাহাজেই তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে বহন করা হয়েছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি সম্প্রতি এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন ব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭–৯ উড়োজাহাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। এছাড়া ত্রুটি শনাক্তকরণ বা কার্যকারিতা পরীক্ষার কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ডও তদন্ত কমিটির কাছে পাওয়া যায়নি।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও তা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি–২০২ ফ্লাইট মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজটির ভিএফএসজি আবারও বিকল হয়ে যায়। তদন্ত কমিটির মতে, এ ধরনের ত্রুটি থেকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা গিয়ারবক্সের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। এর পরও ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হয়।

রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, এক উড়োজাহাজ থেকে অন্যটিতে যন্ত্রাংশ স্থানান্তর এবং জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ পরিবহনের পেছনে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনাকে প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল ও মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকার সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তারা যথাযথ যাচাই ছাড়াই সেটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দিয়েছিলেন, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।


তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।