বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

বাংলাদেশি তরুণরা, তারা যুদ্ধে জড়াচ্ছে কীভাবে?


প্রকাশ :

"প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে পারবো, এটা কল্পনাও করতে পারতাম না। যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ ছিল,"  বলছিলেন মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা মোহন মিয়াজি।

মি. মিয়াজি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউক্রেনের বিপক্ষে যুদ্ধে গিয়েছিলেন।

এরপর যুদ্ধক্ষেত্রে যে ভয়বহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই দেখা যায় মানুষ মরে পড়ে রয়েছে।"

"আসলে ফ্রন্টলাইন (সম্মুখযুদ্ধ) মানে প্রতিটা সেকেন্ডেই মৃত্যুর ভয়। সব সময় গুলি, আর্টিলারি, ড্রোন হামলা চলতেই থাকে...যেখানে-সেখানে ল্যান্ডমাইন। হাঁটার সময় একটু এদিক-সেদিক হলেই মাইন বিস্ফোরণ হয়ে প্রাণ চলে যেতে পারে," যোগ করেন মি. মিয়াজি।

এই যুদ্ধে তার এক বন্ধুও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান।

"আমার বন্ধু আশিকুর, ওর বাড়ি নোয়াখালী, সেও আমার সঙ্গে একসাথে যুদ্ধ গিয়েছিল। কয়েক মাস আগে ও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মারা গেছে," বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে মি. মিয়াজির।

খাবারের কষ্টের বিষয়ে বলেন, "যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে প্রায়ই খাবার পৌঁছাতে সমস্যা হয়। তখন দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়।"

এমন পরিস্থিতিতে রুশ সৈন্যশিবির থেকে পালিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন মুন্সিগঞ্জের এই তরুণ। যদিও পালিয়ে আসার বিষয়টি সহজ ছিল না।

"সেনাক্যাম্পের চারপাশে সব সময় কড়া গার্ড থাকে। পালানোর সুযোগ নেই। কিন্তু আমার কিছুদিনের ছুটি ছিল। তখন ক্যাম্পের বাইরে এসে সেখান থেকে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির সহায়তায় দেশে ফিরে এসেছি," বলেন মি. মিয়াজি।

তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটির অনেক নাগরিক এখনও রাশিয়ার পক্ষে লড়ছেন।

সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা প্রাণ হারাচ্ছেন, হাত-পা হারিয়ে পঙ্গুত্বও বরণ করছেন কেউ কেউ।

কারো কারো ক্ষেত্রে আবার মাসের পর মাস কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কী বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন?- জানেন না দেশে থাকা স্বজনরা।

কিন্তু ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধে কেন এবং কীভাবে জড়িয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা?

অনুসন্ধানে  এমন একটি দালাল চক্রকে খুঁজে পেয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ভালো চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সাধারণ মানুষদের রাশিয়া নিয়ে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

দালালদের এই চক্রটির সঙ্গে ভারতীয় দু'জন নাগরিকের জড়িত থাকার তথ্যও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, পড়াশোনা ও কাজের সুবাদে বাংলাদেশ থেকে যারা রাশিয়া যাচ্ছেন, তাদের মধ্য থেকেও অনেকে মোটা অর্থ ও স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও জানা যাচ্ছে।